বিজয়ওয়াড়া, ২১ জুন (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের কথিত পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে রাজ্য পুলিশ।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই এসআইটি-এর নেতৃত্ব দেবেন পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার ইন্সপেক্টর জেনারেল এম. রবি প্রকাশ। যুবক গাডে সাই কৃষ্ণের নিখোঁজ হওয়া এবং কথিত হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্ত করবে এই দল।
দলের অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন পশ্চিম গোদাবরী জেলার পুলিশ সুপার আদনান নাঈম আসমি এবং আল্লুরি সীতারামারাজু জেলার পুলিশ সুপার অমিত বারদার। বাপটলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এল. সুধাকরকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
সরকার এসআইটি-কে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ফরেনসিক সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী দল কৃষ্ণলঙ্কা থানার বরখাস্ত সার্কেল ইন্সপেক্টর নাগারাজুর বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, খুন এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।
এদিকে, সাই কৃষ্ণের মা গাডে বিজয়া লক্ষ্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলায় নাগারাজুর বিরুদ্ধে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার সকাল থেকে টাস্ক ফোর্স পুলিশ সিংহ নগরে তাঁর বাসভবনে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
১৯ জুন নাগারাজুর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১২৭(৪), ১২৭(৬), ১০৩(১) এবং ২৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
বিজয়া লক্ষ্মীর অভিযোগ, তাঁর ছেলে সাই কৃষ্ণকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ৯ মে একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সাই কৃষ্ণকে তুলে নিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
ছেলেকে খুঁজে পেতে বিজয়া লক্ষ্মী হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন। আদালত ১৫ জুনের মধ্যে সাই কৃষ্ণকে হাজির করার নির্দেশ দিলেও পুলিশ তা করতে ব্যর্থ হয়। পরে আদালত ২৯ জুনের মধ্যে তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দেয়।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ১৭ জুন এই ঘটনার তদন্তের জন্য এক জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সার্কেল ইন্সপেক্টর নাগারাজুকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশও দেন।
পুলিশ ইতিমধ্যে বিজয়া লক্ষ্মীসহ কয়েকজনের বয়ান রেকর্ড করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণও জোগাড় করা হয়েছে।
সাই কৃষ্ণের মায়ের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে মারধর করে হত্যার পর দেহ দাহ করে দেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তকারী দল কৃষ্ণলঙ্কার একটি শ্মশানের নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত যেসব অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে, সেগুলির বিস্তারিত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কৃষ্ণলঙ্কা থানার ১ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সাই কৃষ্ণ ও তাঁর মায়ের মোবাইল ফোনের কল ডেটা রেকর্ড (সিডিআর) আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ওই সময় তাঁদের অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।



















