আগরতলা, ৫ জুলাই : রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেছেন, যক্ষ্মা (টিবি)-র বিরুদ্ধে লড়াই শুধু একটি স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে অঙ্গীকারেরও পরীক্ষা।
শনিবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে টিবিমুক্ত ভারত অভিযান’ এবং ‘নিক্ষয় মিত্র’ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং রিপসেটের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজ্যপাল বলেন, দেশের মধ্যে ত্রিপুরা টিবিমুক্ত অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে পুরস্কৃত হয়েছে। এটি রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, ত্রিপুরা শুধু জাতীয় অভিযানের অংশীদার নয়, এই আন্দোলনের অন্যতম পথপ্রদর্শকও।
রাজ্যপাল বলেন, প্রত্যেক নাগরিক যাতে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। টিবি চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই উদ্দেশ্যে ‘নিক্ষয় মিত্র’ কর্মসূচির আওতায় টিবি রোগীদের পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি রোগীদের দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ও রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি বাড়াবে।
তিনি জানান, আগরতলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইতোমধ্যেই ২১১ জন টিবি রোগীর সহায়তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যা সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রাজ্যপাল আরও বলেন, টিবিমুক্ত ভারতের পথ শুরু হবে গ্রাম থেকে। সেই লক্ষ্যেই টিবিমুক্ত পঞ্চায়েত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিবিমুক্ত ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতন সমাজ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসে শুরু হওয়া ১০০ দিনের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রোগ শনাক্তকরণ বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব কমানো এবং চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইটভাটা শ্রমিক, রাবার ধোঁয়া শিল্পের শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত টিবিমুক্ত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে ত্রিপুরা সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান রাজ্যপাল। তিনি বলেন, টিবিমুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তোলা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা তথা স্টেট টিবি অফিসার ডা. নুপুর দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন পরিবার কল্যাণ ও রোগ নিরাময় দপ্তরের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস, রিপসেটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঋষিরাজ ছেত্রীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে নিক্ষয় মিত্রদের সংবর্ধনা জানানো হয় এবং টিবি রোগীদের হাতে পুষ্টি সহায়তার ফুড বাস্কেট তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া রাজ্যপাল বোতাম টিপে ‘টিবিমুক্ত ভারত’ অ্যাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।



















