নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদের কার্যক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাহত করছেন, যাতে মোদী সরকারের বিদেশ থেকে পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার সাফল্য নিয়ে আলোচনা না হয়— এমনই অভিযোগ করল বিজেপি। বুধবার দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া।
ভাটিয়ার দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কেন্দ্র সরকার ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে মোদী সরকারের অঙ্গীকার ও সাফল্যের প্রমাণ।
সাংবাদিক বৈঠকে গৌরব ভাটিয়া বলেন, “আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন সংসদ চলতে দিচ্ছেন না, তা নিয়ে দেশবাসীর মনে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি সংসদের কার্যক্রম বারবার ব্যাহত করছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি ভিন্ন মতাদর্শের লড়াই চলছে। তাঁর দাবি, “রাহুল গান্ধী দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতি করেন। নৈরাজ্যবাদী শক্তির পাশে দাঁড়ালে নিজেও নৈরাজ্যবাদী হয়ে পড়তে হয়।”
মোদী সরকারের সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ভাটিয়া বলেন, “শূন্য সহনশীলতার নীতিতে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গড়ে প্রতি বছর ৪০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিশ্বের যে প্রান্তেই তারা লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করে ভারতে আনা হয়েছে এবং এখন তারা আইনের মুখোমুখি হবে।”
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে গড়ে বছরে মাত্র চারজন পলাতক অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “একদিকে এক বছরে ৪০ জন, অন্যদিকে ১০ বছরে ৪০ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত এখন অনেক বেশি কার্যকর।”
ভাটিয়ার আরও দাবি, দেশে ফিরিয়ে আনা পলাতক অপরাধীদের কাছ থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সরকারের আমলে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল।
তিনি জানান, দেশে ফিরিয়ে আনা অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৩ জন ধর্ষণ ও পকসো-সহ যৌন অপরাধে অভিযুক্ত, ৪২ জন সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গ্যাংস্টার কার্যকলাপে, ১৮ জন মানবপাচার ও অপহরণে এবং ১৭ জন সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত। এছাড়া মাদক পাচারের অভিযোগে এনডিপিএস আইনে অভিযুক্ত ১৬ জন, জাল নোট ও সাইবার অপরাধে অভিযুক্ত ১২ জন এবং আর্থিক প্রতারণার একাধিক অভিযুক্তকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংসদে উপস্থিত থেকে বিতর্কে অংশ নেওয়া এবং জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু তিনি সংসদ এড়িয়ে চলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আরএসএস সম্পর্কে ভিত্তিহীন মন্তব্য করতেই বেশি আগ্রহী। ভাটিয়ার কথায়, “রাহুল গান্ধী ‘মোদী-ভীতি’ ও ‘আরএসএস-ভীতি’-তে ভুগছেন।”
সাংবাদিক বৈঠকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের সপ্তম বর্ষপূর্তির প্রসঙ্গও তোলেন গৌরব ভাটিয়া। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে এক গৌরবের দিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে জম্মু ও কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের মূল সাংবিধানিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
























