নয়াদিল্লি, ২১ জুন (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যোগ দিবস পালন করা হয়। মেঘালয় ও মণিপুরের শীর্ষ নেতারা যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
দেশব্যাপী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেই আবহেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত হয় বিশেষ কর্মসূচি।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা শিলংয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাঁর উদ্যোগেই আজ গোটা বিশ্ব ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালন করছে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানাই, যিনি শিলংয়ে এসে সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।”
শিলংয়ের অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, সরকারি আধিকারিক এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগ দিবসের জনপ্রিয়তাকে আরও স্পষ্ট করে।
অন্যদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে এবং ১২৭টি দেশের সমর্থনে ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে পালিত হচ্ছে।”
মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কন্থৌজাম গোবিন্দস সিং বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে। তিনি যোগকে বিশ্বমঞ্চে জনপ্রিয় করে তোলা এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূমিকাকে কৃতিত্ব দেন।
তিনি বলেন, “যোগ শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেকের উচিত দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করা।”
উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এদিন স্কুল, কলেজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামরিক ঘাঁটি এবং জনসমাগমস্থলে বিশেষ যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সুস্থ জীবনযাপন, শৃঙ্খলা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার বার্তা ছড়িয়ে দেন।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে উদ্যাপিত হয়। যোগ আজ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও সুস্থতা-ভিত্তিক অবদান হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।



















