নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংযম দেখানো উচিত এবং কঠোরতার পরিবর্তে কাউন্সেলিং, সংলাপ ও তাদের বক্তব্য শোনার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ মিছিলের আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত এক ভারতীয় বায়ুসেনা আধিকারিকের দায়ের করা আবেদনটি নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্যান্য বিচারাধীন মামলার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেয়।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০ জুলাইয়ের মিছিলের আয়োজকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক এবং বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অশালীন বা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা হোক। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সাত দিনের তত্ত্বাবধানে কমিউনিটি সার্ভিসে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিক্ষোভ-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধেও আপত্তি তোলা হয়েছে।
শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার জন্য সরকার ও পুলিশের জবাবদিহি চাওয়া হলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আয়োজকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, অনুমতি ছাড়াই সংসদের দিকে মিছিল করার সময় যে সহিংসতা ঘটেছিল, তার দায় আয়োজকদেরও বহন করা উচিত।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, কিছু ‘বিভ্রান্ত’ ব্যক্তি পাথর ছোড়ার মতো কাজ করলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিক্রিয়া হতে হবে পরিমিত ও দায়িত্বশীল।
তিনি বলেন, “কিছু বিভ্রান্ত মানুষ পাথর ছুড়লেও তরুণদের শান্ত করা এবং কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দরকার। শক্তিশালী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং নতুন করে সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। তা এড়ানো উচিত।”
মিছিলের নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি মন্তব্য করেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শান্তিপূর্ণ মিছিলকে উৎসাহ দেওয়া। যদি কোনও ঘটনা ঘটে, তবে পুলিশকেও যথেষ্ট সংযম দেখাতে হবে যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে না চলে যায়। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।”
আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমাদের সতর্কভাবে এগোতে হবে যাতে এই তরুণরা সহিংসতার পথে না যায়। তাদের কাউন্সেলিং করা এবং শান্ত করা সবচেয়ে ভালো উপায়। সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হল তাদের কথা শোনা। তারা কেন চিৎকার করছে, তা শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন।”
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশলগত সিদ্ধান্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধান বিচারপতির মতে, “এই ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হয়, তা আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আমাদের বা আবেদনকারীর চেয়ে ভালো জানে।”
একই ধরনের বিষয় ইতিমধ্যেই আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট সর্বশেষ আবেদনটিকে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলার সঙ্গে যুক্ত করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জনস্বার্থ মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে দাঙ্গা বা সহিংসতা-সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কোনও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে পারবে না বা মামলা প্রত্যাহার করতে পারবে না। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারে নিষেধাজ্ঞা জারিরও আবেদন জানানো হয়েছে।



















