আগরতলা, ৫ আগস্ট: গত ৩০ জুলাই এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের মহিলা রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের হোস্টেলে এক চিকিৎসকের কক্ষে অনুপ্রবেশের ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর একাধিক দুর্বলতা সামনে এসেছে। একইসঙ্গে জিবিপি হাসপাতালে রেডিওলজিস্টের তীব্র সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
এজিএমসির অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন মজুমদার জানান, ৩০ জুলাই রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে মুখোশ পরা এক ব্যক্তি খোলা বারান্দার দরজা দিয়ে প্রথম বর্ষের এক স্নাতকোত্তর চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করে। অভিযুক্ত পিছন থেকে ওই চিকিৎসককে ধাক্কা দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে পালিয়ে যায়। চিকিৎসকের চিৎকারে আশপাশের সহকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে এলেও ততক্ষণে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে।
তবে তদন্তে উঠে আসে, হাসপাতাল চত্বরে সর্বত্র সিসিটিভি নজরদারি নেই। উপলব্ধ ফুটেজে কেবল অডিটোরিয়ামের পাশ দিয়ে এক যুবকের পেছনের অংশ দৌড়ে পালানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে। এতে নজরদারি ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।
ঘটনার পর রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জানা গেছে, শেষবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে নিরাপত্তা টহল দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা, মহিলা হোস্টেলে অতিরিক্ত বেড়া ও জানালায় গ্রিল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং একাধিক প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ থাকায় নিরাপত্তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর অডিটোরিয়াম ও পেছনের এলাকায় অবৈধভাবে অটো ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। ইতিমধ্যে হোস্টেল ক্যান্টিন সংলগ্ন এলাকাকে আবাসিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে সন্ধ্যার পর সেখানে যানবাহন পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাপক মজুমদার বলেন, হাসপাতালের জন্য একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমানে কর্মরত অধিকাংশ নিরাপত্তারক্ষী নিরস্ত্র হওয়ায় গুরুতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সীমাবদ্ধ। এজন্য অতিরিক্ত পুলিশ টহলেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. বিধান গোস্বামী জানান, হাসপাতালে রেডিওলজিস্টের তীব্র সংকট রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০টি এমআরআই, ১২৫টি সিটি স্ক্যান, ২৫০টি এক্স-রে এবং ১০০টির বেশি সোনোগ্রাফি পরীক্ষা করা হলেও বর্তমানে বিভাগে রয়েছেন মাত্র একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুজন সহকারী অধ্যাপক এবং তিনজন সিনিয়র রেসিডেন্ট। তাঁদের মধ্যেও কয়েকজন ডেপুটেশন ও ছুটিতে থাকায় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
























