ওয়াশিংটন, ১৮ জুন (আইএএনএস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) চূড়ান্ত হয়েছে। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে এই চুক্তিতে সই করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই সমঝোতার লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা কমানো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় চালু করা।
প্যারিসে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বলব, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত নৈশভোজ শেষে ভার্সাই প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে ট্রাম্প জানান, চুক্তিতে ইতিমধ্যেই সই সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, “চুক্তি সই হয়ে গেছে। আমি ভার্সাইয়ে সই করেছি, এইমাত্র সই করলাম।”
এই সমঝোতা স্মারককে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বারবার এই চুক্তিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কতদিন থাকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আরও কিছুদিন থাকবে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তা দেখা হবে। আমার মনে হয় সবকিছু ভালোই হবে, তবে দেখা যাক।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “বর্তমানে তাদের কাছে কী পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান রয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও পারমাণবিক অস্ত্র না পাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
চুক্তির আওতায় আলোচিত ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়েও নমনীয় অবস্থান নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, “আমি এটিকে কঠোর সময়সীমা হিসেবে দেখি না। তারা যতক্ষণ নিয়ম মেনে চলবে, ততক্ষণ আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই।”
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে ইরান চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “যদি তারা প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তাহলে বোমা হামলার হুমকি কি থাকবে? আপনারা যেভাবে খুশি ব্যাখ্যা করতে পারেন, তবে সেটি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।”
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এক বিষয় নয়।
তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানেরও সীমিত পরিসরে সেই সক্ষমতা থাকা অস্বাভাবিক নয়।
তিনি বলেন, “সৌদি আরব, কাতার এবং অন্যান্য দেশের কাছে যদি এমন অস্ত্র থাকে, তাহলে তুলনামূলক ভারসাম্যের দৃষ্টিতে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র থাকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।”
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “রাশিয়া একটি বড় দেশ এবং তাদের সামরিক শক্তিও অনেক বেশি। তবুও ইউক্রেন ভালোভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।”
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি। এখন যেহেতু তেলের দাম অনেকটাই কমে গেছে, তাই সেই বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
ভার্সাই প্রাসাদে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারককে ট্রাম্প বৈশ্বিক বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছেন।



















