আগরতলা, ১৮ জুন : ফের আগরতলার প্রধান ডাকঘর থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ ‘এসকফ’ উদ্ধার হওয়ায় রাজধানীজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বারবার ডাক বিভাগের পার্সেল পরিষেবাকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের ঘটনা সামনে আসায় এই চক্রের কার্যকলাপ ও নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারির অংশ হিসেবে প্রধান ডাকঘরে সন্দেহজনক একটি পার্সেল পরীক্ষা করার সময় বিপুল পরিমাণ এসকফ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, পার্সেলের মাধ্যমে রাজ্যের বাইরে অথবা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগেও আগরতলার প্রধান ডাকঘর থেকে একাধিকবার নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ফলে ডাক পরিষেবাকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। বিপুল পরিমাণ এসকফের বোতল উদ্ধার করেন তারা।
পুলিশের ধারণা, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে এবং পার্সেল পরিষেবাকে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়। পুলিশ উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। পার্সেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছিল, কার নামে বুকিং করা হয়েছিল এবং এর প্রকৃত প্রাপক কে— সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো মাদক পাচার চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হবে।
রাজধানীতে বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদকবিরোধী মহলের দাবি, ডাকঘরসহ বিভিন্ন পরিবহন ও পার্সেল পরিষেবায় নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে মাদক পাচারকারীরা কোনোভাবেই এসব পরিষেবার অপব্যবহার করতে না পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















