নয়াদিল্লি, ১৮ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী শনিবার পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার তারকেশ্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের ২৩তম কিস্তির অর্থ হিসেবে দেশের ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৮৮০ কোটিরও বেশি টাকা স্থানান্তর করবেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, ২৩তম কিস্তির সুবিধাভোগীদের মধ্যে ২.১৮ কোটিরও বেশি মহিলা কৃষক রয়েছেন। এই নতুন কিস্তির অর্থ ছাড়ের পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প চালুর পর থেকে পিএম-কিসান-এর আওতায় মোট বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ ৪.৪৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হবে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
২৩তম কিস্তির অধীনে পশ্চিমবঙ্গে ৪৫.৩৫ লক্ষেরও বেশি কৃষক-সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে ৯০৭.২১ কোটি টাকারও বেশি স্থানান্তর করা হবে। এর ফলে ২০১৯ সালে প্রকল্প চালুর পর থেকে রাজ্যে মোট বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ ১৫,০৫৫ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছাবে।
কৃষকদের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য, জেলা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) এবং স্থানীয় কৃষি দপ্তরের সহায়তায় এই দিনটি ‘পিএম-কিসান উৎসব দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
দেশজুড়ে ১ কোটিরও বেশি কৃষক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, আইসিএআর প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও), কৃষি মণ্ডি, পিএম কিষাণ সমৃদ্ধি কেন্দ্র, প্রাথমিক কৃষি সমবায় সমিতি এবং গ্রামস্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।
পিএম-কিসান-এর ২৩তম কিস্তির অর্থ ছাড়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পও চালু করবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা এবং পুনর্গঠিত আবহাওয়া-ভিত্তিক ফসল বিমা প্রকল্প। বিশ্বের বৃহত্তম ফসল বিমা প্রকল্পের সুবিধা এবার রাজ্যের কৃষকদের কাছেও পৌঁছে যাবে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ১.১০ কোটি কৃষককে এবং প্রায় ৩০ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিকে বিমা সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৮,১৪০ কোটি টাকার বিমাকৃত ফসল সুরক্ষা পাবে। কৃষকদের প্রিমিয়ামের বোঝা কম রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রদান করবে।
ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ‘অ্যাগ্রিস্ট্যাক’ চালু করবেন। এর মাধ্যমে সার বিতরণ, কৃষক ক্রেডিট কার্ড, সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য-এর আওতায় ক্রয়সহ বিভিন্ন কৃষি-সংক্রান্ত পরিষেবা একটি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ হবে।
এছাড়াও, টেকসই ও রাসায়নিকমুক্ত কৃষিকে উৎসাহিত করতে পশ্চিমবঙ্গে ‘ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং’ চালু করা হবে। ২০২৬-২৭ সালের অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যে ১৭,৩০০ হেক্টর জমি জুড়ে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে ৪৩,২৫০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বায়ো-ইনপুট রিসোর্স সেন্টার স্থাপন এবং কৃষি সখীদের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটানো হবে।
সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা’-র বাস্তবায়নও শুরু করবেন। এই প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং ঝাড়গ্রাম জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, ফসল-পরবর্তী পরিকাঠামো ও সেচ সুবিধার উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সহজলভ্যতা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।



















