নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ১৭ জুন: দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ দক্ষিণ চড়িলাম চৌমুহনী পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ ও বিক্ষোভের জেরে অবশেষে পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বুধবার এলাকাটি পরিদর্শন করে সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট লেয়ার মুরগির ফার্ম কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল বিশালগড় মহকুমা প্রশাসন।
এদিন ঘটনাস্থলে যান বিশালগড় মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শুনে সরেজমিনে ফার্মের পরিবেশগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি লেয়ার মুরগির ফার্ম থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ এবং মাছির উপদ্রবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সম্প্রতি এলাকাবাসী বিক্ষোভে সামিল হন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বুধবার পরিদর্শনের পর ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস ফার্ম কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফার্মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ফার্মটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও প্রশাসন বিবেচনা করবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, সমস্যার স্থায়ী সমাধানই এখন তাদের প্রধান দাবি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না বলেও মত প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় মহলের মতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন সবার নজর রয়েছে ফার্ম কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার কার্যকর সমাধান করা না হলে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।



















