তিরুবনন্তপুরম, ১৫ জুন (আইএএনএস): মুনামবাম জমি-বিতর্কে কেরল ওয়াকফ বোর্ডকে নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক। বিজেপির কেরল রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক রাজীব চন্দ্রশেখরের অভিযোগের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজীব চন্দ্রশেখর কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু-র কাছে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, কেরল ওয়াকফ বোর্ড একতরফাভাবে মুনামবামের প্রায় ৪০৪ একর জমিসহ কিছু সম্পত্তি ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইউমিড) পোর্টালে নথিভুক্ত করেছে।
অভিযোগপত্রে রাজীব চন্দ্রশেখর উল্লেখ করেন, ইউমিড কাঠামোর বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ‘মুতাওয়াল্লি’ বা সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়কই কেবল ওই পোর্টালে জমির বিবরণ আপলোড করার অধিকার রাখেন।
তাঁর অভিযোগ, ওয়াকফ বোর্ড সরাসরি সম্পত্তি নিবন্ধন করে আইনসঙ্গত সীমা অতিক্রম করেছে এবং এটি তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার।
এই অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে কেরল ওয়াকফ বোর্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বিজেপি নেতাদের দাবি, মুনামবামের বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্বেগকে কেন্দ্র সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, মুনামবামের বাসিন্দাদের সম্পত্তির অধিকার এবং জীবিকা রক্ষার বিষয়েই তারা অবস্থান নিয়েছে। রাজীব চন্দ্রশেখরের মতে, জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা বিভিন্ন আদালত ও আইনি ফোরামে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত জমিগুলিকে ইউমিড পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা গুরুতর আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু মুনামবাম নয়, রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও, বিশেষ করে তালিপারাম্বায়, ওয়াকফ জমি সংক্রান্ত অনুরূপ অভিযোগ সামনে এসেছে। সেসব ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে যাবে বিজেপি।
রাজীব চন্দ্রশেখর দাবি করেন, প্রকৃত জমির মালিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বেআইনি পদক্ষেপ রোধে দল আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে।
তাঁর মতে, কেন্দ্রের এই হস্তক্ষেপ মুনামবামের বাসিন্দাদের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের অন্যান্য অনুরূপ বিতর্কের ক্ষেত্রেও সত্য উদঘাটন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিজেপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।



















