নয়াদিল্লি, ১৪ জুন (আইএএনএস): বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মূল্যায়ন এখন ক্রমশ তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে করা উচিত বলে মনে করছে কেন্দ্র সরকার। এই প্রেক্ষাপটে গবেষণাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের উপর জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. জিতেন্দ্র সিং।
বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ‘রাইজ কনক্লেভ ২০২৬’-এর পার্শ্ববর্তী এক শিল্প সংলাপ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ফল যেন শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর পরিসরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্ভাবনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ড. সিং শিল্প প্রতিনিধিদের আহ্বান জানান, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা যে সমস্যার মুখোমুখি হন, তা খোলাখুলিভাবে তুলে ধরতে।
তিনি জানান, সরকারি অর্থায়নে তৈরি দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সিএসআইআর-এর টেকনোলজি শোকেস পোর্টালে ৮০০-রও বেশি প্রযুক্তি উপলব্ধ রয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পসংস্থা, উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি বেছে নিয়ে দ্রুত তা গ্রহণ করতে পারবে।
ড. সিং বলেন, প্রযুক্তি সম্পূর্ণ বিকশিত হওয়ার পরে নয়, বরং গবেষণা প্রকল্পের ধারণা তৈরির পর্যায় থেকেই শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু হওয়া উচিত। এতে গবেষণার লক্ষ্য বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ হবে এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়বে।
তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পসংস্থা এবং স্টার্টআপগুলির মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, যাতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দ্রুত বাজারোপযোগী পণ্য ও সমাধানে রূপান্তরিত হয় এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএসআইআরের বিভিন্ন গবেষণাগারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা উন্নত গবেষণা অবকাঠামোকে উদ্ভাবক এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য সাধারণ ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও বেশি উন্মুক্ত করা উচিত।
তিনি একটি লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন কেন্দ্রের উদাহরণও তুলে ধরেন, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০টি সেল উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশে প্রতিষ্ঠিত শিল্প এবং নতুন উদ্যোগ—উভয়কেই সহায়তা করতে পারে।
এছাড়া, অগ্রগামী প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করা স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহিত করতে বিশেষ ইনকিউবেশন ব্যবস্থাও ক্রমশ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
_______


















