হেলসিঙ্কি, ১২ জুন (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় দ্রুত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, দীর্ঘায়িত সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জন্যই নয়, বিশ্বের বহু দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অনেক দেশই বর্তমানে একপ্রকার ‘হতাশ পর্যবেক্ষক’-এর ভূমিকায় রয়েছে।
ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত ‘কুলতারান্তা টকস’-এ “উদীয়মান শক্তি ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা” শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে জয়শঙ্কর এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এলিনা ভালতোনেন এবং লানা নুসেইবেহ।
আলোচনায় জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক দেশই কার্যত হতাশ পর্যবেক্ষকের অবস্থানে রয়েছে। তবে অনেক দেশই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতও সেই প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি জানান, ভারত এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই নয়াদিল্লি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে মার্কিন-ইরান আলোচনা দ্রুত কোনও ফলপ্রসূ পরিণতিতে পৌঁছাবে। কারণ সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা আরও জটিলতা সৃষ্টি করবে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলির দৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে উদ্ভূত যে কোনও সংকট ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সাধারণত যে দেশগুলি কোনও যুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকে, তারা নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকে, আর বাইরের দেশগুলি তুলনামূলকভাবে দ্ব্যর্থক অবস্থান গ্রহণ করে। তবে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বহুস্তরীয়।
ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের ভালো এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট চারটি পক্ষের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রকৃতি ও গভীরতা এক নয়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতের সর্বাধিক প্রবাসী নাগরিকের বাস। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলি ভারতের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী এবং শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ভারতের বৃহৎ প্রবাসী সম্প্রদায়, ব্যাপক বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে। তাই এমন একটি পরিস্থিতিতে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের স্বার্থ ও সম্পর্কের ধরন ভিন্ন, সেখানে ভারসাম্য বজায় রেখে সংঘাত মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটানোই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার।
























