আগরতলা, ১১ জুন: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ঋষ্যমুখ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শিবপুর এডিসি ভিলেজের প্রত্যন্ত ধনচন্দ্র পাড়ার প্রায় ৬০টি পরিবার আজও মৌলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার। গ্রামের একমাত্র সংযোগ সড়কের উপর থাকা ছড়ার ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
অধিকাংশই আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত এই গ্রামের মানুষদের স্কুল, বাজার, রাবার বাগান কিংবা কৃষিজমিতে যেতে হলে ছড়া পার হতে হয়। কিন্তু সেখানে কোনও সরকারি সেতু বা উপযুক্ত পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের উদ্যোগেই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের উদ্যোগে জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি পারাপার স্থানে সেতু বা কালভার্ট না থাকায় ভাঙা বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে সরু চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন সেই পথ দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামের নারী, পুরুষ ও শিশুরা।
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। কৃষকরাও নিজেদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পা পিছলে পড়ে গিয়ে একাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছে, তবুও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের আর কোনও বিকল্প রাস্তা নেই। এই একটাই রাস্তা গ্রামের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বজায় রাখে। বছরের পর বছর ধরে আমরা দুর্ভোগ সহ্য করছি।”
গ্রামবাসীদের দাবি, বিষয়টি বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক, এমডিসি দেবজিত ত্রিপুরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) কাছেও একাধিকবার স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটির জিও-ট্যাগিংও করা হয়েছিল। তবে পরে গ্রামবাসীদের জানানো হয়, সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই এবং বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়।
ধনচন্দ্র পাড়ার বাসিন্দাদের একটাই দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। তাঁদের মতে, একটি সেতুই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে গ্রামটিকে মূল সড়কের সঙ্গে নিরাপদভাবে যুক্ত করতে পারে।























