শিলং, ১১ জুন (আইএএনএস): ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস জেলায় ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ আটকে রয়েছেন এক বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিক। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি এখনও সীমান্তের বিতর্কিত অংশেই অবস্থান করছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
আটকে পড়া ব্যক্তির নাম সতী রাজবংশী (৫৫)। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা জেলার গুদাগাড়ি থানার অন্তর্গত চলনা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা প্রয়াত বাঘবত্তা রাজবংশী।
কর্মকর্তাদের মতে, বুধবার থেকে মেঘালয়ের মহেন্দ্রগঞ্জ সংলগ্ন নন্দীর চর সেক্টরে বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার জেরে তিনি সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকে রয়েছেন।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টির সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনও সমাধানসূত্র না মেলায় ওই ব্যক্তি এখনও নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
বিএসএফের দাবি, সতী রাজবংশীকে তাঁর গ্রাম থেকে বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিজিবি সদস্যরা নিয়ে এসে আন্তর্জাতিক সীমান্তে হাজির করে এবং তাঁকে ভারতের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে বিএসএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্ত পারাপারে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না এবং ওই ব্যক্তিকে ভারতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য, সতী রাজবংশী বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাঁকে জোর করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএসএফ সূত্র আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ার কারণেই সতী রাজবংশীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। একই ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আরও কয়েকটি এলাকায় দেখা গিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময় সামনে এসেছে যখন পূর্ব সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।
সম্প্রতি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পুনরায় জানিয়েছেন যে, অসম সরকার রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া কঠোরভাবে চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিএসএফের অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজিবি বা বাংলাদেশের শীর্ষ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তের দুই পাশেই নিরাপত্তারক্ষীরা মোতায়েন রয়েছেন এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। মানবিক ও কূটনৈতিক এই জটিলতার সমাধানে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



















