News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • কেরলে অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, চক্রের সদস্য-সহ ৯ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
Image

কেরলে অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, চক্রের সদস্য-সহ ৯ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

কোচি, ৮ জুন (আইএএনএস): কেরলে সক্রিয় একটি কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে এক সন্দেহভাজন চক্রের সদস্য-সহ ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। কোল্লাম জেলার কোট্টারাক্কারায় যৌথ অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের কেরলে বসবাসের অভিযোগে চলা তদন্তের অংশ হিসেবে অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস) এবং মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্তের নাম মমতাজ বেগম। তিনি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার চৌতাবুনিয়া এলাকার নিশানবাড়িয়ার বাসিন্দা বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, কেরলের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে প্রবেশ ও বসবাসের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বেগম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক গত তিন মাস ধরে কোট্টারাক্কারায় একটি স্ক্র্যাপ ব্যবসায় কাজ করছিলেন, যা বেগমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, সম্প্রতি তিনি অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে কেরলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের অনেকেই স্ক্র্যাপ সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে বেগম নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসতেন। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ব্যবহার করে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ।

সংস্থাগুলির দাবি, তিনি ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডও সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। পরে কোল্লাম জেলার কারুনাগাপল্লি-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্ক্র্যাপের দোকান গড়ে তোলেন।

বেগমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি তিনটি অটোরিকশাও কিনেছিলেন। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে লিজ চুক্তি, গাড়ির মালিকানার নথি এবং ব্যবসা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকেও বিভিন্ন পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁদের কাছ থেকে আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে। যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলছে, তবে উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডগুলির মধ্যে দু’টি আসল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া অভিযুক্তদের কাছ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, এক রাজনৈতিক নেতা এবং কয়েকজন সরকারি কর্মী বেগমকে ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড পেতে সাহায্য করেছিলেন। পাশাপাশি একটি অক্ষয় কেন্দ্র-এর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে। পরিচয়পত্র সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানে ওই কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত এখনও চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

Releated Posts

পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় রদবদল, এনটিএ-র ৪৭ আধিকারিককে বরখাস্ত কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস) : দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার।…

ByBySandeep Biswas Jul 24, 2026

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সিজেপি আন্দোলনে পেলেট ব্যবহারের বিষয়ে ‘মিথ্যা বলছে’ কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র ব্যানারে…

ByBySandeep Biswas Jul 24, 2026

ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হোক রোমানিয়ার সংস্থাগুলি, ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের প্রবৃদ্ধির যাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য রোমানিয়ার সংস্থাগুলিকে…

ByByNews Desk Jul 24, 2026

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আলোচনা নয়: রাহুল গান্ধী

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): প্রশ্নফাঁস বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও বিরোধীদের সংঘাতের আবহে শুক্রবার লোকসভার বিরোধী…

ByByNews Desk Jul 24, 2026
Scroll to Top