আগরতলা, ৭ সেপ্টেম্বর: আসন্ন এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে তিপ্রা মথা ও বিজেপির রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে মথা সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে মথা নেতৃত্বের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বলেন, ভোটের আগে আদিবাসী, বিশেষ করে তরুণ-যুব সম্প্রদায়ের আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপি ও তিপ্রা মথার শীর্ষ নেতৃত্বের দিল্লি সফরের পর যে তথাকথিত চুক্তির কথা বলা হয়েছে, তার বাস্তবায়নের সময়সীমা, আইনি ভিত্তি এবং চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেছে কংগ্রেস।
উনার বক্তব্য, নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির পর কীভাবে এবং কোন আইনের মাধ্যমে ওই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি চুক্তিতে ঠিক কী কী বিষয় রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মথা সুপ্রিমোর সাম্প্রতিক ফেসবুক লাইভের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের অভিযোগ, সেখানে চুক্তির বিষয়বস্তু এড়িয়ে বিভিন্ন অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দলটি।
কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, এই রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্য শুধু আসন্ন এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন নয়; ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি-বিরোধী ভোট বিভাজনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেস বিবৃতিতে এডিসি গঠন ও তিপ্রা মথার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এডিসিতে ক্ষমতাসীন ও সরকারের শরিক হওয়ার পর তিপ্রা মথা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উন্নয়নের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, দলের সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মথা নেতৃত্ব যে বক্তব্য দিচ্ছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট বৃদ্ধির পর দলত্যাগ থেকে শুরু করে পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান ‘আগে চুক্তির বাস্তবায়ন, পরে জোট’ অবস্থান—সবকিছুর মধ্যে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
কংগ্রেসের পরামর্শদাতা হিসেবে মথা সুপ্রিমোর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে বিবৃতিতে। আশিস কুমার সাহা বলেন, জাতীয় কংগ্রেস দেশের ও রাজ্যের কল্যাণে যেকোনো সৎ, নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ নিরপেক্ষ ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণে প্রস্তুত। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার ঐতিহ্য কংগ্রেসের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে দেশের স্বার্থবিরোধী এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত শক্তির সঙ্গে যারা রাজনৈতিকভাবে হাত মিলিয়ে চলে, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন কংগ্রেসের নেই বলেও স্পষ্ট করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
শেষে বিজেপি-তিপ্রা মথার রাজনৈতিক সমঝোতা এবং ভোট বিভাজনের অভিযোগের বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আশিস কুমার সাহা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।



















