নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় অভিযুক্ত ভবন মালিক হরিরাম বনসলকে গ্রেপ্তার করতে ১০টি পৃথক দল গঠন করল দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারির পর তাঁকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গঠিত ১০টি দলে স্থানীয় জেলা পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল স্টাফ এবং জেলার বিভিন্ন অপারেশনাল বিভাগের আধিকারিকরা রয়েছেন। পলাতক ভবন মালিকের সন্ধানে অভিযান আরও বিস্তৃত করতে এবং বিভিন্ন জায়গায় সমন্বিতভাবে তল্লাশি চালাতেই এই দলগুলি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিটি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (অ্যাডিশনাল ডিসিপি) পদমর্যাদার আধিকারিক। ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা গোটা অভিযানের তদারকি করছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় চলা তল্লাশির মধ্যে সমন্বয় করছেন।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, হরিরাম বনসলকে খুঁজে বের করতে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের একাধিক জায়গায় বর্তমানে অভিযান চালানো হচ্ছে। রবিবার ভবন ধসের ঘটনায় বনসল-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পাঁচতলা ভবনটি পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভবনের বেসমেন্টে সংস্কারের কাজ চলাকালীন আচমকাই সেটি ধসে পড়ে বলে অভিযোগ। ‘হস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত ভবনটি মূলত ছেলেদের পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় সেখানে একাধিক ছাত্র ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাশের একটি ভবনও ধসে পড়ে। ফলে ওই এলাকার ভবনগুলির নিরাপত্তা ও কাঠামোগত স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দল এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু ছাত্র আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকটি কলেজের বেশ কিছু ছাত্র ওই এলাকায় পিজি আবাসনে থাকতেন।
এদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সোমবার সকালে ফের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি উদ্ধারকাজ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী অন্যান্য কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবন মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ঘটনায় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি)-র কোনও আধিকারিকের গাফিলতি বা কর্তব্যে কোনও ত্রুটি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) জানিয়েছে, একই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে দিল্লি জুড়ে বেআইনি পাঁচতলা ভবনগুলি অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের পিজি ও অন্যান্য ভবনে ব্যাপক পরিদর্শন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের নিয়মভঙ্গ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ভবন সিল করে দেওয়া হবে।
সিএমও-র তরফে বলা হয়েছে, দিল্লির বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। গাফিলতির ঘটনা সামনে এলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
ভবন ধসের পর সত্য নিকেতন ও সংলগ্ন এলাকায় পিজি এবং অন্যান্য আবাসিক ভবনগুলির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। সম্ভাব্য নিয়মভঙ্গ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিদর্শন চালানো হচ্ছে।
—আইএএনএস (IANS)



















