নয়াদিল্লি, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সমআয়তন বিশ্ব মানচিত্র সংক্রান্ত প্রস্তাবকে সমর্থন করল ভারত। তবে একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী সঠিকভাবে দেখাতে হবে। কোনও ধরনের ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সমআয়তন বিশ্ব মানচিত্র সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ‘মানচিত্র সংশোধন: বৈশ্বিক মানচিত্রাঙ্কনগত উপস্থাপনার ভারসাম্য পুনঃস্থাপন এবং বিশ্বের অঞ্চলসমূহ, বিশেষত আফ্রিকার, ন্যায়সঙ্গত উপস্থাপনার প্রসার’ শীর্ষক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
তিনি জানান, এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হল এমন সমআয়তন মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, যেখানে বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়। তবে কোনও নির্দিষ্ট বিশ্ব মানচিত্রকে অনুমোদন বা স্বীকৃতি দেওয়া এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য নয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমানা, বিতর্কিত অঞ্চল বা কোনও স্থানের নাম সংক্রান্ত রাজনৈতিক মানচিত্র নিয়েও এতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
জয়সওয়াল বলেন, ভারত প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ভোটের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করেছে যে সমআয়তন মানচিত্র ব্যবহারের মূল নীতিকে সমর্থন করলেও কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্র, মানচিত্র-প্রক্ষেপণ বা জাতীয় সীমানার নির্দিষ্ট উপস্থাপনাকে ভারত অনুমোদন করছে না।
তিনি আরও বলেন, “ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড, যার মধ্যে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও রয়েছে, ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী চিত্রায়িত করতে হবে। কোনও ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, ধারাবাহিক এবং আপসহীন।”
শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যার লক্ষ্য পৃথিবীর মহাদেশগুলির প্রকৃত আয়তনকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরে এমন মানচিত্র-প্রক্ষেপণের ব্যবহার উৎসাহিত করা। ষোড়শ শতকের মারকেটর প্রক্ষেপণের বিরুদ্ধে আফ্রিকার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রচারের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানচিত্রগুলির মধ্যে এখনও মারকেটর প্রক্ষেপণ অন্যতম।
প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়। এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া ও ইউক্রেন ভোটদানে বিরত থাকে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
তবে এই প্রস্তাব মারকেটর প্রক্ষেপণ নিষিদ্ধ করেনি এবং কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্রকে বাধ্যতামূলক বিকল্প হিসেবেও নির্ধারণ করেনি। বরং আপেক্ষিক আয়তন গুরুত্বপূর্ণ হলে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে ‘সমান পৃথিবী’ সহ অন্যান্য সমআয়তন মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে উপস্থাপনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে শিক্ষাদানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
_______



















