আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর: শিক্ষার মান নিয়ে রাজ্য সরকার কোনও ধরনের আপস করবে না বলে স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বেসরকারি বিএড কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ‘ভুয়া কলেজ’ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য ও নথি যাচাই না করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তাঁর কথায়, শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি ভুয়া সার্টিফিকেট বা নথির মাধ্যমে অনিয়ম করে থাকে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোনও ধরনের আপস করবে না বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন। তাঁর অভিযোগ, অতীতেও রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে অশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কিশোর বর্মন বলেন, কলেজে কোনও ধরনের ভাঙচুর বা নাশকতা বরদাস্ত করা হবে না। যেখানে যেখানে এমন ঘটনা ঘটছে, সেগুলির তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতার আহ্বান জানান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলেজ কোনও রাজনৈতিক লড়াইয়ের জায়গা নয়। কলেজ হচ্ছে জ্ঞান, চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
কলেজ ক্যাম্পাসে দরজা-জানালা, টেবিল, কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে গুরুতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সম্পত্তি কোনও ব্যক্তি বা দলের নয়—এগুলি জনগণের সম্পত্তি। তাই কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অভিযোগ করা হলেই কাউকে দোষী বলা যায় না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে বা যারা এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে শিক্ষার পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এদিন মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।



















