পাটনা, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারে বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের ১১টি জেলায় প্রায় ১৬.৮৫ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে লাগাতার ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১টি জেলার ৬১টি ব্লক এবং ৩০০টি গ্রাম পঞ্চায়েত বন্যার কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাবার, আশ্রয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ত্রাণ তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে ৮০টি কমিউনিটি কিচেন চালু রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.২১ লক্ষ মানুষকে খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে, যেখানে ৩২৬ জন বন্যাদুর্গতকে থাকা, খাবার, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৫,৯০০টি পলিথিন শিট এবং ১১,৭০০টি শুকনো রেশন প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজ্যজুড়ে মোট ১,১৫৮টি নৌকা চালানো হচ্ছে।
আগামী দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ২৭টি স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ) দল এবং ৭টি ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) দল বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জলসম্পদ দফতরের রবিবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিহারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গঙ্গা এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। বক্সারে গঙ্গার জলস্তর বিপৎসীমার ০.০৮ মিটার উপরে থাকলেও সেখানে জল কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাটনার দিঘাঘাটে জলস্তর বিপৎসীমার ১.৫৪ মিটার, গান্ধীঘাটে ১.৯৬ মিটার এবং হাতিদহে ১.৭৪ মিটার উপরে রয়েছে। গান্ধীঘাটে জলস্তর স্থিতিশীল থাকলেও হাতিদহে তা বাড়ছে।
মুঙ্গেরে গঙ্গার জলস্তর বিপৎসীমার ০.৫১ মিটার উপরে এবং সেখানে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। সুলতানগঞ্জে জলস্তর বিপৎসীমার ২.০১ মিটার এবং ভাগলপুরে ০.৬৫ মিটার উপরে রয়েছে। কাহালগাঁওয়েও গঙ্গা বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে।
অন্যদিকে, প্রয়াগরাজ ও বারাণসীতে গঙ্গার জলস্তর সতর্কতা সীমার নিচে রয়েছে। প্রয়াগরাজে জলস্তর বাড়লেও বারাণসীতে তা কমার প্রবণতা দেখা গেছে।
ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় ইন্দ্রপুরীর সোন ব্যারেজ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ২,২৭,৭৩৯ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছিল। সেখানে জলপ্রবাহ কমছে। বীরপুরের কোসি ব্যারেজ থেকে ১,৬৮,৪০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে এবং প্রবাহ স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারেজ থেকে ১,২৯,০০০ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে, সেখানেও জলপ্রবাহ স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিহার আবহাওয়া পরিষেবা কেন্দ্র আগামী দু’দিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা এবং তার জেরে নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলির পরিস্থিতি রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের তরফে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণসামগ্রী, নৌকা এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হচ্ছে।
(আইএএনএস)



















