সাহারানপুর, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর সেখানে প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি কুয়োর সন্ধান মিলেছে। কুয়োটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে।
শনিবার আদালতে মুসলিম পক্ষের আবেদন খারিজ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কালেক্টরেট চত্বরে থাকা ওই মসজিদ ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপরই সেখানে কুয়োটির সন্ধান পাওয়া যায়।
সদর মহকুমার এসডিএম সুবোধ কুমার আইএএনএসকে বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই ভবনটি ভাঙা হয়েছে। এরপর সেখানে একটি কুয়ো পাওয়া যায়। এএসআইয়ের একটি দল কুয়োটি পরীক্ষা করবে এবং তদন্তের পরই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, এএসআইয়ের দল ঘটনাস্থলে এসে কুয়োটি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত রয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে কুয়োটিও ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী নেতারা এই পদক্ষেপের বৈধতা এবং সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, আদালত মুসলিম পক্ষের আবেদন খারিজ করার পর সম্পূর্ণ আইন মেনেই মসজিদটি ভাঙা হয়েছে।
রবিবার আইএএনএসকে কংগ্রেস মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, ১০০ বছরের পুরনো কোনও ভবন অবৈধ হতে পারে না—এটাই স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবিত পক্ষকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য সময় না দিয়েই ভবনটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যদিও সংবিধান অনুযায়ী সেই অধিকার রয়েছে। এমনকি তাঁদের হাইকোর্টেও যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রাজপুত আরও অভিযোগ করেন, গুরুতর বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে শাসক জোট সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, রাতের অন্ধকারে সরকার ও প্রশাসনের নির্দেশে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বিজেপি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে উত্তেজনা ও মেরুকরণ তৈরি করতে চাইছে।
অন্যদিকে, জেডি-ইউয়ের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক শ্যাম রজক বলেন, কোনও ভবন অবৈধভাবে নির্মিত হলে সেখানে ধর্মের ঊর্ধ্বে আইনই প্রাধান্য পাবে। তাঁর কথায়, মসজিদ, মন্দির বা গির্জা—যে কোনও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্মিত হলে সরকার সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আইন মেনে কোনও নির্মাণ ভাঙা হলে তা স্বাগত জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর একদিন আগে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের জাতীয় সভাপতি আরশাদ মাদানি অভিযোগ করেছিলেন, কথিত অবৈধ সম্পত্তি ভাঙতে বুলডোজারের ব্যবহার ক্রমশ ন্যায়ের প্রতীক না হয়ে প্রতিশোধ, পক্ষপাত এবং ঘৃণার রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।
(আইএনএস)
























