নয়াদিল্লি, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রে গরবা ও দান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতকে কটাক্ষ করল বিরোধীরা। বিরোধী নেতাদের দাবি, নিউইয়র্কে ‘এক বিশ্ব, এক মানবতা’ সম্মেলনে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির পক্ষে ভাগবত যে বক্তব্য রেখেছিলেন, মহারাষ্ট্রে ভিএইচপির অবস্থানের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক।
ভিএইচপি মহারাষ্ট্রে গরবা ও দান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অংশগ্রহণকারীদের ‘হিন্দু পরিচয় যাচাই ও শনাক্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “মনে হচ্ছে ফড়নবিশ সরকার প্রশাসনের দায়িত্ব আউটসোর্স করে দিয়েছে। এখন যেন ভিএইচপিই প্রশাসন পরিচালনা করবে।”
নিউইয়র্কে ভাগবতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সম্ভবত মোহন ভাগবতজি আমেরিকায় তাঁর কিছু লাগেজ ফেলে এসেছেন। সেই লাগেজের সঙ্গে সেখানে বলা কথাগুলিও হয়তো ফেলে এসেছেন। তাঁর উচিত সেই লাগেজ ফিরিয়ে এনে নিজের লোকজনকে সেসব কথা বোঝানো।” তিনি আরও বলেন, “দয়া করে এই দেশের চরিত্র নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না।”
শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতও ভিএইচপির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “কে বলেছে মুসলিমরা গরবা খেলতে পারবে না? বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লোকজন, যারা সম্প্রতি নিজেদের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে, তারাই এই ধরনের মন্তব্য করছে।”
গরবাকে দেশের একটি ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে রাউত বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসে মুসলিমদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
ভাগবতের নিউইয়র্কের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাউত বলেন, “মোহন ভাগবতজি বিদেশে গিয়ে বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় কোনও বিভেদ থাকা উচিত নয়। তিনি এমনও বলেছেন যে কোনও হিন্দু যদি মনে করেন মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত, তাহলে তিনি আর হিন্দু থাকেন না। অথচ তাঁর সঙ্গে যুক্ত লোকজন এখানেই এসব করছেন।”
আরএসএস প্রধানকে সরাসরি এই বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাউত বলেন, “ভারত ও নিউইয়র্কে আলাদা আলাদা বক্তব্য দিয়ে চলবে না।”
ভিএইচপির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়ও। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত। গরবা একটি সাংস্কৃতিক উৎসব এবং যে কেউ এতে অংশ নিতে পারেন। গরবার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার আমরা তীব্র নিন্দা করছি।”
(আইএএনএস)



















