চেন্নাই, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তামিলনাড়ুর বিরোধী দল ডিএমকের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। একইসঙ্গে বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বা কুরুচিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। সোমবার পুলিশ দফতরের অনুদানের দাবির উপর বিধানসভায় বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে বিজয় বলেন, রাজনৈতিক সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও নারীদের বিরুদ্ধে অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের নিয়ে অশ্লীল বা মানহানিকর মন্তব্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধানসভায় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্যেই তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
ডিএমকের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করার অভিযোগও তোলেন বিজয়, যেখানে দলকে ভোট না দেওয়া মানুষদের নিশানা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য জনগণের রায়কে অসম্মান করার মানসিকতার পরিচয় দেয় এবং এ কারণেই ডিএমকেকে বর্তমানে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, সরকারি নথি ও বিধানসভার গ্রন্থাগারে থাকা বিভিন্ন রিপোর্টে এ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। তিনি ১৯৭৭ সালের সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট এবং বীরানাম পাইপলাইন প্রকল্পে কথিত অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন চুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন দাবি করা হয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দিতে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে কথিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তরফে দলীয় তহবিলের নামে অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন বিজয়। তাঁর দাবি, কিছু লেনদেনে ৭.৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মন্ত্রী ভি. সেন্থিল বালাজি তাঁর সরকারি পদ অপব্যবহার করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজয়ের আরও দাবি, ওই কথিত লেনদেনের সঙ্গে কিছু আধিকারিক এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও যুক্ত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ডিএমকে সভাপতি এম.কে. স্ট্যালিন এবং দলের নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের নামও উল্লেখ করেন। তবে বিজয়ের উত্থাপিত অভিযোগগুলি এখনও অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং কোনও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট নথির পরিমাণ এতটাই বেশি যে সেগুলি সম্পূর্ণ পড়ে শোনাতে প্রায় দু’দিন সময় লাগবে। তাই বিধানসভায় তিনি শুধু তার সারাংশ তুলে ধরেছেন। বিজয় ডিএমকেকে অভিযোগগুলির জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, যে প্রমাণের কথা বলা হচ্ছে, তা সরকারি নথিতেই ইতিমধ্যে রয়েছে।
বক্তব্যের শেষে বিজয় বলেন, তিনি পদ বা ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে আসেননি, মানুষের সেবা করতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। সি.এন. আন্নাদুরাই, এম.জি. রামচন্দ্রন এবং এন.টি. রামা রাওয়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধিতার উপর মানুষের ভালোবাসাই জয়ী হবে।
—আইএএনএস (IANS)



















