অমরাবতী, ৩ জুন (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ও জনসেনা পার্টির প্রধান পবন কল্যাণ বুধবার বলেছেন, তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রতি তাঁর সমর্থন কখনও রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কারণে ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর নীতিগত অবস্থান ও দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন।
হায়দরাবাদে জনসভার অনুমতি না দেওয়া নিয়ে তেলঙ্গানা পুলিশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর একদিন পর তিনি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পুরনো টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের ভিডিও পোস্ট করেন।
পোস্টে পবন কল্যাণ লেখেন, “তেলঙ্গানা রাজ্যের প্রতি আমার সমর্থন নতুন নয়। ২০০৯ সালে প্রজা রাজ্যম পার্টির যুব শাখা ‘যুব রাজ্যম’-এর নেতৃত্বে থাকাকালীন আমি ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা এবং গণকবি গদ্দার গারুর সঙ্গে তেলঙ্গানা সামাজিক ন্যায় সভায় অংশগ্রহণ করেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “সেই সময় প্রয়াত ওয়াই. এস. রাজশেখর রেড্ডির নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার তেলঙ্গানা গঠনের বিরোধিতা করছিল। তখনই আমি প্রকাশ্যে তেলঙ্গানার মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করেছিলাম এবং ‘সামাজিক তেলঙ্গানা’-র ডাক দিয়েছিলাম, যা সামাজিক ন্যায়, আত্মমর্যাদা এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।”
পবন কল্যাণের দাবি, “তেলঙ্গানার প্রতি আমার সমর্থন কখনও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ছিল না। এটি ছিল আমার বিশ্বাস যে মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তখন আমি যে অবস্থান নিয়েছিলাম, তা তেলঙ্গানা ও তার জনগণের প্রতি আমার অটল অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রতি আমার সমর্থন রাজনীতির বিষয় ছিল না, বরং নীতির প্রশ্ন ছিল।”
মঙ্গলবার জনসেনা প্রধান ঘোষণা করেন যে তাঁর দল তেলঙ্গানায় সক্রিয় থাকবে এবং ২০২৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
তিনি তেলঙ্গানার কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে তাঁর জনসভার অনুমতি অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
পবন কল্যাণ জানান, তিনি তেলঙ্গানা সফর করবেন এবং জনসেনা রাজ্যের প্রতিটি জনস্বার্থের বিষয় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনও ধরনের হুমকি বা চাপ তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে তেলঙ্গানা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে বুধবার আরও একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে পবন কল্যাণ বিশিষ্ট তেলুগু কবি শেষেন্দ্রর বিখ্যাত কবিতা ‘দ্যাট ইজ মাঈ পাথ’ (ওটাই আমার পথ) শেয়ার করেন।
কবিতাটিতে এমন এক পথের কথা বলা হয়েছে, যা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্টের মাধ্যমে পবন কল্যাণ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।



















