মুম্বই, ২৯ মে (আইএএনএস) : পুনে এবং পিম্প্রি চিনচওয়াড়ে বিষাক্ত চোলাই মদ পান করে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। শুক্রবার তিনি দুই শহরের পুলিশ কমিশনারকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, বেআইনি মদ তৈরির বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনওরকম রেয়াত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কেউ যেন শাস্তি এড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফড়নবীস বলেন, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাকে নিছক অবহেলা হিসেবে নয়, “খুন” হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর আইনি ধারা প্রয়োগ করা হবে।
তিনি জানান, পুনে এবং পিম্প্রি চিনচওয়াড়ের পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ রেখেছেন। তদন্তে ইতিমধ্যেই সেই নির্দিষ্ট জায়গার খোঁজ মিলেছে, যেখানে মিথানলজাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে ওই চোলাই মদ তৈরি করা হয়েছিল।
ফড়নবীস বলেন, এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গোটা অবৈধ সরবরাহ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজতে বড়সড় তল্লাশি অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, যাঁরা এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে যাতে আরও প্রাণহানি এড়ানো যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পুনে এবং পিম্প্রি চিনচওয়াড়ের পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলেছি। কোথায় এই বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি কার্যত খুনের ঘটনা এবং সেই অনুযায়ী কঠোর ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে। কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরই প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। পুনে পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমার নিজে হাডাপসারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে অভিযান তদারকি করেন।
অবৈধ মদের পুরো নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পুলিশ, রাজ্য আবগারি দফতর এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের যৌথ তদন্তকারী দল একাধিক জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪৮ ঘণ্টায় নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা ১৩ হলেও সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, কারণ দুই পৃথক পুরসভা এলাকায় নতুন নতুন ঘটনা সামনে আসছে।
ফরেন্সিক তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ২১৫ লিটার উচ্চমাত্রার বিষাক্ত শিল্পজাত মিথানল দেশি মদের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে ছাড়া হয়েছিল।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যোগেশ ওয়ানখেড়ে নামে এক কুখ্যাত মদ কারবারি, যার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই ব্যক্তি দুই এলাকাতেই এই প্রাণঘাতী মদের চালান সরবরাহ করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং মৃতদের পরিবারগুলির দাবি, সস্তার বেআইনি মদের ঠেক থেকেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শক্তিশালী আইনি মামলা গড়ে তুলতে মেডিক্যাল রিপোর্ট ও ফরেন্সিক তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















