News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • কেরলে মাদক জাল বিস্তার: অভিবাসী বাহক, বিলাসবহুল পার্টি ও উচ্চমূল্যের নেশার বাড়তি চাহিদা
Image

কেরলে মাদক জাল বিস্তার: অভিবাসী বাহক, বিলাসবহুল পার্টি ও উচ্চমূল্যের নেশার বাড়তি চাহিদা

নতুন দিল্লি, ৫ মে (আইএএনএস): কেরলে মাদক সমস্যার গভীরতা ক্রমেই বাড়ছে। শুধু ট্রানজিট ও প্রবেশপথ হিসেবেই নয়, রাজ্যে মাদকের ভোক্তা বাজারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

সংস্থাগুলির নজরে এখন কেবল সরবরাহকারী বা পাচারকারীরাই নয়, ভোক্তারাও। সাম্প্রতিক সময়ে বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত উচ্চপ্রোফাইল পার্টিগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগে যেখানে গাঁজার চাহিদা বেশি ছিল, এখন সেখানে হেরোইন, এমডিএমএ এবং একস্ট্যাসি ট্যাবলেটের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

এক আধিকারিক জানান, কেরলে মাদক পাচারের জন্য পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। উপকূলীয় রুট এখনও সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে অভিবাসী শ্রমিকদের মাদক বহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যারা এই শ্রমিকদের কেরলে নিয়ে আসে, তারাই অনেক ক্ষেত্রে তাদের দিয়ে মাদক সরবরাহ করায়। টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজে যুক্ত করা হয় এবং অস্বীকার করলে নিজ রাজ্য বা দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

গত দেড় বছরে প্রায় ১০৩ জন অভিবাসী শ্রমিককে এই ধরনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। অনেক ক্ষেত্রে রেলস্টেশন থেকেই তাদের আটক করা হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গাঁজার তুলনায় হেরোইন সহজে শনাক্ত করা যায় না বলেই পাচারকারীরা এখন এই মাদকটির দিকে বেশি ঝুঁকছে। এছাড়া নতুন কৌশল হিসেবে রেলস্টেশনের নির্দিষ্ট জায়গায় মাদকভর্তি ব্যাগ ফেলে রেখে পরে অন্যদের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করার পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, কেরল পুলিশ উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি মাদক চক্রের তদন্ত করছে, যেখানে এমডিএমএ ও একস্ট্যাসির সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। কেভিন বি ম্যাথিউ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। তার কাছ থেকে ১৮৩.৫৫ গ্রাম এমডিএমএ ও ৯৩.৫১ গ্রাম একস্ট্যাসি ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত পার্টিগুলিতে বড় পরিমাণে মাদক সরবরাহ করা হত। এই পার্টিগুলিকে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বলে দেখানো হলেও, বাস্তবে সেগুলি মাদক নেটওয়ার্কিংয়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এছাড়া, আন্তঃরাজ্য মাদক চক্রের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, কোচিতে আসা মাদকের একটি অংশ কর্ণাটক ও দিল্লি থেকে আসছে। গত ২৮ মার্চ কাদাভানথ্রার একটি বিলাসবহুল হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তারের পরই এই তদন্ত শুরু হয়।

গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, কেরলে মাদকের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনই সরবরাহও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ৫৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা থাকায় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের কাছে কেরল একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ ও ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-এর মাদক চক্রগুলিও এখানে সক্রিয় বলে জানা গেছে।

Releated Posts

দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় মুম্বইয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা; উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ২০২৬ আরও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহারাষ্ট্রের…

ByByNews Desk Jun 22, 2026

রাজ্য বাজেট নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ মমতার, তড়িঘড়ি সমালোচনা না করার বার্তা দলীয় শিবিরে

কলকাতা, ২২ জুন (আইএএনএস): রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার জন্য নিজের অনুগত তৃণমূল…

ByByNews Desk Jun 22, 2026

গোরখপুরে নাবালকের হাতে একই পরিবারের তিনজন খুন, চাঞ্চল্য উত্তরপ্রদেশে

গোরখপুর, ২২ জুন : উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, ১৬ বছর…

ByByNews Desk Jun 22, 2026

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে নেতাদের বার্তা: সুস্থ জীবন, মানসিক প্রশান্তি ও সক্রিয় বার্ধক্যের জন্য যোগ অপরিহার্য

নয়াদিল্লি/মুম্বই/লেহ, ২১ জুন (আইএএনএস): ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরলেন…

ByByNews Desk Jun 21, 2026
Scroll to Top