নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অধিবেশন সফল হলেও বিতর্ক ও আলোচনার দিক থেকে তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
দুই কক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিজিজু বলেন, অধিবেশনকে দুটি দিক থেকে দেখা যায়। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মোট ১২টি বিল পাশ হওয়ায় অধিবেশন সফল হয়েছে। তবে বিতর্ক ও আলোচনার ক্ষেত্রে এর সাফল্য সন্তোষজনক নয়।
তিনি জানান, বরাদ্দ সময়ের তুলনায় লোকসভায় উৎপাদনশীলতা ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বিরোধীদের হট্টগোল ও মাঝেমধ্যে ওয়াকআউটের কারণে রাজ্যসভায় উৎপাদনশীলতা দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে।
রিজিজু জানান, লোকসভায় মূলত একটি বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তা প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ দুই কক্ষেই যথাযথ আলোচনা ও বিতর্কের পর পাশ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আইন কোনও উল্লেখযোগ্য বিতর্ক ছাড়াই পাশ হওয়ায় রাজনৈতিক মহল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন সাংসদও বিষয়টির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্ষাকালীন অধিবেশন কার্যত ভেস্তে যাওয়ার জন্য বিরোধীদের দায়ী করে রিজিজু অভিযোগ করেন, তাঁদের লাগাতার হট্টগোল ও অধিবেশনের কাজ ব্যাহত করার কৌশলের কারণেই সংসদের উভয় কক্ষ বারবার মুলতুবি হয়েছে। তাঁর দাবি, বিরোধীরা বিতর্ক থেকে ‘পালিয়ে যাচ্ছে’।
রিজিজু স্বীকার করেন যে বর্ষাকালীন অধিবেশন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের আচরণ ও কার্যকলাপের ফলেই সংসদের কাজ বারবার থমকে গিয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীরা সরকারের কাছে জবাব চাইবে এবং সরকার সেই জবাব দিতে বাধ্য। কিন্তু এই অধিবেশনে সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বিরোধীরা বিভিন্ন অজুহাতে আলোচনা এড়িয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। বিশেষ করে দলের নবনির্বাচিত সাংসদদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দলের হট্টগোলের কারণে তাঁরা সংসদে নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগই পাননি এবং নিজেদের দলের তৈরি পরিস্থিতির ‘শিকার’ হয়েছেন।
রিজিজুর অভিযোগ, কংগ্রেস সাংসদদের ভূমিকা কার্যত স্লোগান দেওয়া, প্ল্যাকার্ড দেখানো এবং হট্টগোলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আগামী শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের এই মনোভাবের পরিবর্তন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
























