নিউ ইয়র্ক, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): “এটি একটি বিপজ্জনক পেশা”—সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে এমন মন্তব্যই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাস বলছে, তাঁর কথার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহু প্রেসিডেন্ট হামলার মুখে পড়েছেন, যার মধ্যে চার জনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সময় গুলির আঘাতে তাঁর কানে সামান্য চোট লাগে। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান, যদিও ওই ঘটনায় মঞ্চে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হন। হামলাকারীকে পরে সিক্রেট সার্ভিস গুলি করে হত্যা করে। নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এরপর একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডায় তাঁর গলফ কোর্সের কাছে এক ব্যক্তিকে রাইফেলসহ লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সিক্রেট সার্ভিস গুলি চালালে সে পালিয়ে যায়, পরে ধরা পড়ে এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পায়।
মার্কিন ইতিহাসে প্রেসিডেন্টদের উপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটনের একটি হোটেলের বাইরে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লাগে, তবে তিনি বেঁচে যান। হামলাকারী জন হিঙ্কলি মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ঘোষণা করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলির একটি ১৯৬৩ সালে ঘটে, যখন জন এফ. কেনেডি টেক্সাসের ডালাসে খোলা গাড়িতে সফরের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। অভিযুক্ত লি হার্ভে অসওয়াল্ড-কে পরে জ্যাক রুবি নামে এক ব্যক্তি হত্যা করে, যা নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেয়।
এর পাঁচ বছর পর, তাঁর ভাই রবার্ট এফ. কেনেডি ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সময় খুন হন।
১৯৭৫ সালে জেরাল্ড ফোর্ড-এর উপরও হামলার চেষ্টা হয়, যদিও বন্দুক বিকল হয়ে যাওয়ায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। হামলাকারীকে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাই বর্ষিত কান্দুলা হোয়াইট হাউসের সামনে ট্রাক নিয়ে আঘাত করে এবং প্রেসিডেন্টকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আব্রাহাম লিঙ্কন ১৮৬৫ সালে ওয়াশিংটনের একটি থিয়েটারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরে জেমস এ. গারফিল্ড (১৮৮১) এবং উইলিয়াম ম্যাককিনলি (১৯০১) হত্যার শিকার হন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ, জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং উচ্চ প্রভাবশালী সিদ্ধান্ত—এই সব কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।



















