নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): জনগণনা শুধুমাত্র সরকারের কাজ নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব—এ কথা উল্লেখ করে দেশবাসীকে ২০২৭ সালের জনগণনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার নিজের মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১৩৩তম পর্বে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চলছে, যা প্রতিটি ভারতীয়ের জানা উচিত। এটি বিশ্বের বৃহত্তম জনগণনা অভিযান।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের আদমশুমারি এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
তিনি বলেন, “এবার নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও সহজ করা হয়েছে। গণনাকারী আসার ১৫ দিন আগে থেকেই আপনারা নিজেরাই তথ্য পূরণ করতে পারবেন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একটি বিশেষ আইডি পাওয়া যাবে, যা মোবাইল বা ইমেলে পৌঁছাবে।”
পরে গণনাকারী বাড়িতে এলে সেই আইডি দেখিয়ে তথ্য যাচাই করা যাবে, ফলে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না—এতে সময়ও বাঁচবে এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব রাজ্যে স্ব-তথ্যভর্তি সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে ইতিমধ্যেই বাড়ি গণনা শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জাতীয় জনগণনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সকলের দায়িত্ব। আপনার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও গোপন রাখা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জনগণনা হবে দেশের ১৬তম দশবার্ষিক জনগণনা (স্বাধীনতার পর অষ্টম) এবং এটিই হবে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল জনগণনা। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ সালে নির্ধারিত এই প্রক্রিয়া পিছিয়ে ২০২৭ সালে করা হচ্ছে।
এবারের জনগণনায় ১৯৩১ সালের পর প্রথমবারের মতো সমস্ত গোষ্ঠীর জন্য বিস্তৃত জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি জনজাতি (এসটি)-র বাইরে গিয়েও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।



















