নয়াদিল্লি, ২৫ এপ্রিল (আইএএনএস) : নিজের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ নিয়ে বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। শনিবার তিনি বলেন, তিনি নিজেই বইটির কোনও চূড়ান্ত প্রকাশিত কপি দেখেননি, ফলে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কীভাবে ওই বইয়ের অংশ পেয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারাভানে বলেন, “লেখক হিসেবে আমিই এখনও বইটির ফাইনাল কপি দেখিনি। তাই কোন বই দেখানো হচ্ছে বা সেটি কোথা থেকে এল, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারি না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন-ও স্পষ্ট জানিয়েছে যে বইটির কোনও মুদ্রিত বা ডিজিটাল কপি এখনও প্রচারে নেই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংসদের বাইরে রাহুল গান্ধী এই অপ্রকাশিত বইয়ের একটি কপি দেখিয়ে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করেন, যা ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে ২০২০ সালের ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার “পূর্ণ স্বাধীনতা” দিয়েছিল, যা সেনাবাহিনীর প্রতি সরকারের আস্থারই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “সেনাকে যখন স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তার মানে সরকার তাদের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখে।”
বইয়ের একটি অংশ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে—যেখানে ‘যা উপযুক্ত মনে হয় তাই করুন’—এই মন্তব্যকে ঘিরে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান আরও বলেন, সীমান্তে কোনও পদক্ষেপই এককভাবে সেনার কাজ নয়, বরং এটি একটি ‘হোল-অফ-নেশন’ প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কূটনৈতিক স্তর এবং সেনাবাহিনী—সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলেই সাফল্য এসেছে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় বাহিনীর পদক্ষেপের ফলেই চিনা সেনা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। “যদি এটাও সাফল্য না হয়, তাহলে আর কী?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।


















