কলকাতা, ২৩ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপোর্ট তলব করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাম সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে আজুপা (আজাম জনতা উন্নয়ন পার্টি)-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সংঘর্ষ—এই দুই পৃথক ঘটনার উপর বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকায় বুধবার রাত থেকেই বামফ্রন্ট সমর্থক ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর এলাকায় সিপিআই(এম) সমর্থকদের একাংশকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি, শুরুতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও সামনে আসে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইকের মাধ্যমে ভোটারদের আশ্বস্ত করে। এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় বাম সমর্থকেরা ভোট দেন বলে জানা গেছে। যদিও ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ডোমকলের ২১৭ নম্বর বুথ পরিদর্শন করেন এসডিপিও শুভম বাজাজ, যেখানে সিপিআই(এম) সমর্থকেরা তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদা এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তৃণমূল কর্মীরা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবং তাঁকে এলাকা ছাড়ার দাবি জানান। এর প্রতিবাদে কবীর অবস্থান বিক্ষোভে বসে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন এবং অন্যান্য রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।
রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোটগণনা ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে।



















