কলকাতা, ২০ এপ্রিল (আইএএনএস): এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সোমবার কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তাঁর দুই পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছে। পলাতক গ্যাংস্টার সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে যুক্ত একটি টাকা পাচার চক্রের তদন্তে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রবিবার ইডি আধিকারিকরা দক্ষিণ কলকাতার ফার্ন রোডে বিস্বাসের বাড়ি এবং তাঁর এক পুত্রের মালিকানাধীন একটি কোচিং সেন্টারে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন বিস্বাসের সঙ্গে সোনা পাপ্পু এবং শহরের এক প্রোমোটার জয় কামদার-র ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সোমবার ইডি ওই প্রোমোটারকে গ্রেফতার করেছে।
সূত্রের দাবি, বিস্বাস ও তাঁর দুই পুত্রের সঙ্গে কামদার ও সোনা পাপ্পুর সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতেই তাঁদের তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাপ্পু ও কামদারের মধ্যে আর্থিক যোগসূত্রের প্রমাণ হাতে পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
যদিও কামদারকে গ্রেফতার করা হলেও অসুস্থতার অভিযোগে তাঁকে সোমবার প্রতিরোধমূলক মানি লন্ডারিং আইনের (পিএমএলএ) বিশেষ আদালতে পেশ করা যায়নি। তাঁকে কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে আদালতে ইডির আইনজীবী জানান, গত চার মাসে কামদারের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এছাড়াও তাঁর পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমর্থন থাকার সম্ভাবনার কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
এর আগের এক অভিযানে কামদারের বাড়ি থেকে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করে ইডি। পাশাপাশি একাধিক ডিজিটাল ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি নিবন্ধিত শিক্ষা ট্রাস্ট থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ভুয়ো সংস্থা বা শেল কোম্পানির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি ইডির। বর্তমানে এমন ২৫টি শেল সংস্থাকে নজরে রেখেছে তদন্তকারী সংস্থা।


















