কলকাতা, ১৯ এপ্রিল (আইএএনএস): ডিলিমিটেশন বিল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
রবিবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময়ই লোকসভা ও রাজ্যসভায় মহিলাদের বেশি প্রতিনিধিত্বের পক্ষে। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছে। লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ৩৭.৯ শতাংশই মহিলা এবং রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ মহিলা সদস্য মনোনীত।”
তিনি আরও বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের বিরোধিতার প্রশ্নই ওঠে না।”
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভাষণে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের ধারণাকেই ‘ধ্বংস’ করেছে।
এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মূলত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। তাঁর অভিযোগ, “মহিলাদের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কেন্দ্র সরকার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ডিলিমিটেশন চাপিয়ে দিতে চাইছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগকে “ফেডারেল গণতন্ত্রের উপর আঘাত” বলেও অভিহিত করেন এবং জানান, তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে নীরব থাকবে না।
এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করে এখন কেন তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যখন একাধিক রাজ্যে নির্বাচন চলছে।
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “পরের বার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলে সংসদের ভিতর থেকে বলার সাহস দেখান, যেখানে জবাবদিহি ও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।”



















