কৈলাসহর, ১৯ এপ্রিল: ঊনকোটি জেলায় হাম ও রুবেলা পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার ঊনকোটির জেলা সদর কৈলাসহর সফরে এলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্য অধিকর্তা সজু ওয়াহিদ এ, আইএএস। এদিন সকাল ১০টায় তিনি রাজধানী আগরতলা থেকে কৈলাসহরে পৌঁছান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলার স্বাস্থ্য মহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
কৈলাসহরে পৌঁছে রাজ্য অধিকর্তা সজু ওয়াহিদ এ প্রথমে সার্কিট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলার জেলা শাসক ডক্টর তমাল মজুমদার, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ শিরশেন্দু চাকমা, ডিস্ট্রিক্ট সার্ভিলেন্স অফিসার ডঃ অমিত দেববর্মা, জেলা টীকাকরণ আধিকারিক ডঃ সন্দীপন ভট্টাচার্যি এবং জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডঃ রোহন পাল। এছাড়াও গৌরনগর ব্লকের বিডিও অঙ্কার দেব সহ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিক ও কর্মীরা এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে জেলার বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং টিকাকরণ কর্মসূচীর পরিসংখ্যান খুঁটিয়ে দেখেন রাজ্য অধিকর্তা।
বৈঠক শেষে অধিকর্তা সরাসরি চলে যান গৌরনগর ব্লকের অধীনস্থ ইরানি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানে তিনি পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডঃ প্রীতম দাস সহ গ্রাউন্ড লেভেলে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। টিকাকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো অনীহা বা সমস্যা রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি খোঁজ নেন। এরপর তিনি পরিদর্শন করেন কৈলাসহর ভগবাননগরস্থিত ঊনকোটি জেলা হাসপাতাল। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পর তিনি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডঃ রোহন পালকে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা পরিষেবা জারি রাখার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে সংবাদ প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে সজু ওয়াহিদ এ জানান যে, পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণে। তবে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সংক্রমণের প্রভাব এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা হওয়ার কারণে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। তিনি বলেন: ”কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনও কিছু শিশু টিকাকরণ থেকে বাদ পড়ে আছে বলে আমরা চিহ্নিত করেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৯ থেকে ১৬ মাস বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলার এমআর টিকা নিশ্চিত করা হবে।”
সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে তিনি জেলার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যদি শরীরে জ্বর এবং সাথে চামড়ায় লালচে গুটি বা র্যাশ দেখা দেয়, তবে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। ঊনকোটি জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও মজবুত করতে এবং হাম-রুবেলা নির্মূল করতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর একযোগে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অধিকর্তার এই ঝটিকা সফরের পর জেলার টিকাকরণ কর্মসূচী আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



















