News Flash

  • Home
  • স্বাস্থ্য
  • জিএলপি-১ ওষুধে নজরদারি বাড়াল ভারত, নিরাপত্তা ও অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ
Image

জিএলপি-১ ওষুধে নজরদারি বাড়াল ভারত, নিরাপত্তা ও অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ

নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল (আইএএনএস): ওজন কমানো এবং ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের উপর নজরদারি আরও কঠোর করছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি। চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় বাজারে সস্তা জেনেরিক সংস্করণ আসার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশন (আইপিসি)-কে এই ওষুধগুলির সঙ্গে যুক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বাজারে আসার পর ওষুধগুলির উপর নজরদারি জোরদার করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বৃহত্তর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার অংশ, যা দ্রুত বাড়তে থাকা এই ধরনের থেরাপির ব্যবহারকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে, বিশেষত যখন এগুলির দাম কমে সাধারণ মানুষের নাগালে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহুল ব্যবহৃত ওজন কমানোর ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সেমাগ্লুটাইড-এর পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাজারে আরও সস্তা বিকল্প আসতে পারে। এতে যেমন ব্যবহারের পরিধি বাড়বে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) সম্প্রতি নজরদারি ও পরিদর্শন আরও বাড়িয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে ৪৯টি সংস্থায় অভিযান চালানো হয়েছে, যার মধ্যে অনলাইন ফার্মেসির গুদাম, পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতা এবং ওজন কমানোর ক্লিনিক অন্তর্ভুক্ত।

এই অভিযানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি, ভুল চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারের মতো অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে যে নিয়ম না মানলে লাইসেন্স বাতিল, আর্থিক জরিমানা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং কার্ডিওলজিস্টদের মতো প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরাই এই ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১০ মার্চ সরকার নির্মাতাদের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে এবং এমন কোনও প্রচার না করতে নির্দেশ দেয়, যা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহারে উৎসাহিত করে।

জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির এই ওষুধগুলি মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এগুলি ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায় এবং পাকস্থলীর খালি হওয়ার গতি কমিয়ে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে বমি বমি ভাব, বমি থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে প্যানক্রিয়াটাইটিস, কিডনি ক্ষতি এবং অন্ত্রের বাধার মতো ঝুঁকিও থাকতে পারে।

Releated Posts

কঙ্গোতে পাঁচ প্রদেশে ছড়িয়েছে ইবোলা, আক্রান্ত বেড়ে ১,৮৭৩; মৃত্যু ৬৭২

কিনশাসা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করেছে। দেশটির পাঁচটি…

ByBySandeep Biswas Jul 13, 2026

আগামী ১৪ ও ১৫  জুলাই আবারো জিবিপি হাসপাতালে দুটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জুলাই: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর(ডাঃ)মানিক সাহার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে সপ্তম…

ByByReshmi Debnath Jul 11, 2026

ত্রিপুরায় প্রস্তাবিত হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জুন: ত্রিপুরায় প্রস্তাবিত নতুন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে গত…

ByByReshmi Debnath Jul 1, 2026

জোধপুরে সিজারিয়ানের পর অসুস্থ ৮ প্রসূতি, আইসিইউ-তে দু’জন; উদ্বেগ বাড়ছে রাজস্থানে

জয়পুর, ২২ জুন (আইএএনএস): রাজস্থানের কোটা ও বিকানেরে সিজারিয়ান প্রসবের পর মাতৃমৃত্যু এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতার ঘটনার পর এবার…

ByByNews Desk Jun 22, 2026
Scroll to Top