News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • পশ্চিম জেলা ভোক্তা আদালতের প্রেসিডেন্ট গৌতম সরকারের অপসারণের দাবিতে অনড় ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন
Image

পশ্চিম জেলা ভোক্তা আদালতের প্রেসিডেন্ট গৌতম সরকারের অপসারণের দাবিতে অনড় ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন

আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি: পশ্চিম জেলা ভোক্তা আদালতের সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালতে মামলা লড়তে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বার এসোসিয়েশনের আজকের বৈঠকে বিচারপতি গৌতম সরকারের অপসারণের দাবি তোলা হয়েছে এবং সরকারকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মৃণাল কান্তি বিশ্বাস, সম্পাদক কৌশিক ইন্দু, বরিষ্ঠ আইনজীবী পীযূষ কান্তি বিশ্বাস, অরিন্দম ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য আইনজীবীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিচারক গৌতম সরকার নিয়মিতভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আদালতে হাজির হন এবং এমনকি চেম্বারে বসেই মদ্যপান করেন। কর্মচারীদের অভিযোগ, নেশার ঘোরে তিনি অফিস স্টাফদের সঙ্গে কদাচিৎই অনুচিত আচরণ করেন। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং অবশেষে প্রকাশ্যে আসায় আদালতের কর্মী ও আইনজীবীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

বরিষ্ট আইনজীবী পীযূষ কান্তি বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারক গৌতম সরকার নিয়মিতভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আদালতে হাজির হন এবং এমনকি চেম্বারে বসেই মদ্যপান করেন। সোনামুড়া ও আমবাসায় কর্মরত থাকার সময়েও গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। জেলা ভোক্তা আদালতের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর নিয়োগের পর পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়েই বার অ্যাসোসিয়েশন সর্বসম্মতভাবে আদালত বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে শীঘ্রই সাক্ষাৎ করে গৌতম সরকারের অপসারণের দাবি জানানো হবে। তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ফের সাধারণ সভা ডেকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

আইনজীবী অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন, শুধু আইনজীবীরাই নন, কমিশনের কর্মচারীরাও গৌতম সরকারের আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত। অভিযোগ, তিনি প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় আদালতের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। অফিস চলাকালীন তাঁর আচরণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি করেন, আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই গৌতম সরকার নিজেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক বলে সমালোচনা এড়ানোর চেষ্টা করতেন।

আইনজীবীদের অভিযোগ, বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও বারবার গৌতম সরকারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সভায় এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে শীঘ্রই মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে সব অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে।

এদিকে, গৌতম সরকার এনসিসি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর হুমকি সৃষ্টি করছে।

Releated Posts

ধর্মনগরে ত্রিপুরা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে ছাদের অংশ ভেঙে আহত মহিলা ও শিশু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৩ আগস্ট: উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে ত্রিপুরা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের একটি শাখায় সোমবার দুপুরে ছাদের একটি অংশ…

ByByReshmi Debnath Aug 3, 2026

আমবাসায় বিলাসবহুল গাড়ি থেকে ৩৪৯ বোতল এসকফ ও ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার, দুই যুবক গ্রেপ্তার

আমবাসা, ৩ আগস্ট: রাজ্যে নেশাবিরোধী অভিযানে আরও একটি বড় সাফল্য পেল আমবাসা থানার পুলিশ। নিয়মিত নাকা চেকিং চলাকালীন…

ByByTaniya Chakraborty Aug 3, 2026

ধর্মনগরে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আগরতলা, ৩ আগস্ট: গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ধর্মনগর থানার…

ByByReshmi Debnath Aug 3, 2026

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত গর্ভবতী মহিলা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ; মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্তের দাবি

আগরতলা, ৩ আগস্ট: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক গর্ভবতী মহিলাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। করবুক মহকুমার…

ByByTaniya Chakraborty Aug 3, 2026
Scroll to Top