News Flash

Image

মিজোরামে মুষলধারে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৫ জনের মৃত্যু, ৫০০-র বেশি ভূমিধসের ঘটনা

আইজল, ৩ জুন : টানা ভারী বর্ষণে বিধ্বস্ত মিজোরামে গত ১০ দিনে ভূমিধস ও দেওয়াল ধসে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন দপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৫৫২টি ভূমিধস, ১৫২টি বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাম্পাই জেলায় ৩ জন, আইজল ও সেরচিপ জেলায় একজন করে মারা গেছেন। অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে ভূমিধস ও দেওয়াল ধস-এর ফলে বাড়িঘর ভেঙে পড়ায়।

মিজোরামে টানা বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হচ্ছে মায়ানমার সীমান্তবর্তী চাম্পাই, যেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২০৯টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, ৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেরচিপ জেলায় ১ জনের মৃত্যু ছাড়াও ৭৫টি ভূমিধস হয়েছে, ২৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৩২টি পরিবার ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। আইজল জেলায় ১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ১৮টি ভূমিধস এবং ১৩টি বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এ ছাড়াও ১৭টি বাড়ি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। খাওজাওল জেলায় ৭৫টি ভূমিধস এবং ৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লুংলেই জেলায় ৬০টি ভূমিধস এবং ১৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ মিজোরামের সিয়াহা জেলায় ৫৩টি ভূমিধস এবং ২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোলাসিব জেলায় ২৩টি বাড়ি ধ্বংস বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং প্রশাসন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করছে।

এই বিপর্যয়ের মধ্যে মোট ১৯৮টি পরিবার ভূমিধস ও মাটির ফাটলের কারণে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন, এবং ৯২টি পরিবার বন্যার কারণে ঘর ছেড়েছেন, বলে জানিয়েছে দপ্তর।

টানা বৃষ্টির কারণে মিজোরামের শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটেছে। সাইতুয়াল জেলা ছাড়া রাজ্যের সমস্ত স্কুল মঙ্গলবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠনে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, সেরচিপ জেলায় প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণকারী শতাধিক ট্রাক আটকে পড়ায় দক্ষিণ মিজোরামের বিভিন্ন জেলায় রসদের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কাজ করছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর -এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত তিন দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে আইজল জেলায়—২৫৩.৭ মিমি। এরপরে খাওজাওল জেলায় ২৪৮.৩৩ মিমি এবং সিয়াহা জেলায় ২৪১.৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশাসনের তরফে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও, একাধিক এলাকা এখনো বিচ্ছিন্ন। ভূমিধস ও বৃষ্টির দাপটে মিজোরামে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিপর্যস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Releated Posts

২৯ নভেম্বর ভারত মণ্ডপমে বেজে উঠবে ভূপেন হাজারিকার গান

গুয়াহাটি, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কিংবদন্তি গায়ক, সুরকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২৯ নভেম্বর…

ByByNews Desk Sep 28, 2026

মেঘালয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসের সন্দেহে শ্বাসরোধ, অসমের ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

শিলং, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলার রাংডোকরাম গ্রামে নির্মীয়মাণ একটি ভূগর্ভস্থ সেপটিক ট্যাঙ্কে কাজ করার…

ByByNews Desk Sep 28, 2026

নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিতর্কের জন্য ইন্ডিয়া জোটের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত: হিমন্ত

নয়াদিল্লি, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে গুজব ও বিতর্ক ছড়ানোর মাধ্যমে…

ByByNews Desk Sep 27, 2026

মিজোরামে ১৭.৮৯ কোটি টাকার মাদক ও নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার

আইজল, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মিজোরামের চাম্পাই জেলায় প্রায় ১৭.৮৯ কোটি টাকা মূল্যের মাদক ও নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করেছে…

ByByNews Desk Sep 27, 2026
Scroll to Top