ধর্মনগর, ৯ সেপ্টেম্বর: উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমার পশ্চিম রাধাপুর গ্রামের বাসিন্দা রূপম দেবনাথ শূকর প্রতিপালন খামারের ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পেরেছেন। রূপমের পরিবার প্রায় দুই কানি জমির মালিক। ২০০১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রূপম বিএসএনএল-এর অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৩ সালের শেষ দিকে তিনি অস্থায়ী চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে শূকরের খামার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
২০১৪ সালে দুটি শূকর নিয়ে খামার শুরু করেন রূপম। এক বছরের মধ্যে তার খামারে নয়টি শূকর ছানা জন্মায়, যা তাকে আরও উৎসাহিত করে। এরপর রাজ্য সরকারের কেসিসি লোন থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং শীঘ্রই সেই ঋণ পরিশোধ করেন। পরে, তিনি ১৩ লক্ষ টাকার আরেকটি কেসিসি লোন পান এবং এক কানি জমিতে বড় খামার তৈরি করেন এবং আরও কিছু শূকর ছানা কিনে আনেন। তারপর থেকে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
বর্তমানে, রূপমের খামারে ৩০০-এরও বেশি শূকর রয়েছে। খামারে চারজন কর্মচারী কাজ করেন এবং রূপম নিজে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করেন। গ্রীষ্মকালে শূকরদের দিনে তিনবার স্নান করাতে হয় এবং শীতকালে একবার। খামারের পয় পরিষ্কার রাখেন রূপম নিজেই। তিনি আগরতলার এআরডিডি দপ্তরে পাঁচ দিনের তিনটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
রূপম জানান, শূকরের প্রয়োজনীয় ইনজেকশন ও ঔষধপত্র তিনি নিজেই শূকর ছানা থেকে শুরু করে বড় শূকরদের দেন। এআরডিডি দপ্তরের ডাক্তাররা প্রতি সপ্তাহে একবার করে খামারে এসে শূকরদের চেকআপ করেন। খামারে শূকর ছানাদের তিনবার এবং বড় শূকরদের দুবার খাবার দেওয়া হয়। খাদ্য তালিকায় থাকে ধান, দানা, কচু, ফেনা, কলা গাছ, শিমুল আলু ইত্যাদি।
রূপম দেবনাথ ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশন (এনএলএম) থেকে আরেকটি লোনের জন্য আবেদন করেছেন এবং আশা করছেন শীঘ্রই তা পেয়ে যাবেন। সেই ঋণের অর্থ দিয়ে তিনি আরও এক কানি জমিতে বড় খামার তৈরি করবেন। এই ঋণে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রূপম সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ১৪০০ শূকর ছানা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। এছাড়া আশপাশের বাজারে শূকর ছানা ও বড় শূকর বিক্রি করে থাকেন।
২০১৯ সালে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রজ্ঞা ভবনে সমস্ত খামারিদের সাথে বৈঠক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, খামার দ্বিগুণ করতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এই অনুপ্রেরণায় রূপম তার বাড়ির এক কানি জমিতে বিশাল আকারের শূকরের খামার তৈরি করেছেন।
রূপম দেবনাথ অনেক অভাব অনটন কাটিয়ে এখন তার পরিবারকে নিয়ে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। তার কাছে অনেকেই খামার ও শূকর প্রতিপালন সম্পর্কে জানতে আসেন, এবং তিনি সবাইকে তার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা ভাগ করে দেন। ইচ্ছে, মনোবল ও একাগ্রতা থাকলেই যে কোন বিষয়ে সফল হওয়া যায় এটাই প্রমাণ করে দেখালেন রূপম দেবনাথ |



















