হাফলং (অসম), ৬ জুন (হি.স.) : উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ-এর বিভিন্ন পদে ডিমা হাসাও জেলার একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে নিযুক্তি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস্ ফোরাম সহ জেলার নয়টি জনজাতি ছাত্র সংগঠন।
আজ বৃহস্পতিবার ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস্ ফোরামের হাফলং সদর কার্যালয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের বিভিন্ন পদে এই পাহাড়ি জেলার অনান্য জনজাতি জনগোষ্ঠীয় প্রার্থীদের বঞ্চিত করে এক বিশেষ জনজাতি জনগোষ্ঠীয় প্রার্থীদের বিনা বিজ্ঞাপন ও বিনা সাক্ষাৎকারে পিছনের দরজা দিয়ে নিযুক্তি দেওয়া হয়েছে।
নয়টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি এভাবে চলতে থাকে, তা-হলে পাহাড়ি জেলায় শান্তি আসবে না। বরং ছাত্র সংগঠনগুলি আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস্ ফোরামের সভাপতি ডেভিড কেভম বলেন, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের বিভিন্ন পদে বর্তমান বিজেপি শাসিত পরিষদের কার্যনির্বাহী সমিতি পিছনের দরজা দিয়ে জেলার একটি বিশেষ জনজাতি জনগোষ্ঠীর প্রার্থীদের নিযুক্তি দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিজ্ঞাপন বা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, যাদের নিযুক্তি দেওয়া হয়েছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও। ডেভিডের অভিযোগ, এ সব রাজনৈতিক নিযুক্তি। তাই এ নিয়ে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তাঁর কথায়, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলার বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
ডেভিড কেভমের আরও অভিযোগ, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদে কংগ্রেস শাসনে থাকার সময় পরিষদের কার্যনির্বাহী সমিতিতে জেলার সংখ্যালঘু জনজাতি জনগোষ্ঠীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্থান দেওয়া হতো। কিন্তু বিজেপি পরিষদের ক্ষমতায় আসার পর জেলার সংখ্যালঘু জনজাতি জনগোষ্ঠীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্থান দেওয়া হয় না। এতে সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন সংখ্যালঘু জনজাতি জনগোষ্ঠীর মানুষ, অভিযোগ কেভমের
তিনি বলেন, ২০১০ সালে পূর্বতন উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলার নাম সরকারিভাবে বদল করে ডিমা হাসাও করা হলেও উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের নাম বদল করা হয়নি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পার্বত্য পরিষদের প্রধান সচিব (ট্রান্সফার) যদি কোনও সার্টিফিকেট বা চিঠি নির্দেশনা জারি করেন, এতে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ লেখা থাকে।
কিন্তু পরিষদের প্রধান সচিব (নর্মাল) যদি কোনও সার্টিফিকেট বা চিঠি নির্দেশনা জারি করেন, এতে লেখা থাকে ডিমা হাসাও উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ। তার মানে কি ডিমা হাসাও জেলায় দুটি স্বশাসিত পরিষদ রয়েছে? তাছাড়া ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদ নামে যে সব সার্টিফিকেট ও নথিপত্র ইস্যু করা হয় তা কি কোনও সরকারি কাজে লাগবে?
এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে ডেভিড কেভম বলেন, পরিষদ কর্তৃপক্ষের এহেন কাজে ডিমা হাসাও জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। তাই এখনই যদি এ সব বন্ধ না হয় তা-হলে আগামী দিনে আমরা তীব্র আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হব, বলেন ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি ডেভিড কেভম।



















