আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরা থেকে গাঁজা নিয়ে আসামে যাওয়ার পথে একটি গাঁজা বোঝাই লরি আটক করতে সক্ষম হয়েছে অসম পুলিশ। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা গৃহীত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ত্রিপুরা থেকে লরি বোঝাই করে গাঁজা পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল পাচারকারীরা। ত্রিপুরা সীমান্ত পেরিয়ে অসম সীমান্তে প্রবেশ করতেই পুলিশ সন্দেহভাজন ওই গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালায়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ প্যাকেটে ৪০১ কেজি শুকনো গাজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার করা গাঁজা অনুমানিক বাজার মূল্য ৪০ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই গাজার প্রকৃত মানিক চোরাই বাড়ির সুজিত নাথ নামে এক ব্যক্তি।
জানা গেছে, সজিব নাথ নামে ওই গাঁজা পাচারকারী গাড়ির পেছন পেছন চুড়াইবাড়ি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল। তখন ওই বাইক সহ তাকে আটক করে অসম পুলিশ। গাঁজা পাচারের ঘটনায় গাড়ির চালক বিশ্বাস ও সহচালক মিঠু চৌধুরী কেউ গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় চোরাই বাড়ি পুলিশ গেটের একজন শ্রমিকও জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাকে আটক করা যায়নি। গাঁজা পাচারকারীর মূল পান্ডা সুজিত নাথ এবং গাড়ির চালক প্রদীপ বিশ্বাস ও সহচালক মিন্টু চৌধুরীকে অসম পুলিশ করিমগঞ্জ জেলা আদালতে সোপর্দ করেছে। তাদের তিনজনের বিরুদ্ধেই এনডিপিএস ধারায় মামলা গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা থেকে প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি বুঝাই করে নানা কৌশলে গাঁজা বহির রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পুলিশের একাংশকে মেনেজ করেই গাঁজা পাচারকারীরা তাদের এই পাচার বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে এভাবে গাড়ি বুঝাই করে গাঁজা পাচার করা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন ।
ত্রিপুরা পুলিশের এ ধরনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। উল্লেখ্য ত্রিপুরা সরকার গাঁজা চাষ ও গাঁজা পাচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও রাজ্যে ব্যাপক হারে গাঁজা চাষ হচ্ছে এবং গাঁজা পাচার অব্যাহত রয়েছে । রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এ ধরনের কাজকর্ম চলেছে।



















