আইনসভায় সর্বোচ্চ মানের বিতর্ক দরকার, অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদীদেশের অন্যান্য রাজ্যকে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলায় অরুণাচল-মডেল গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান মুর্মুর

‘দেশের সমস্ত রাজ্য বিধানসভার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা উচিত’

ইটানগর, ২১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : আইনসভায় সর্বোচ্চ মানের বিতর্কের দরকার, ইটানগরে অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে জোরের সঙ্গে বলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
আজ মঙ্গলবার অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, শৃঙ্খলা এবং শালীনতা বা শিষ্ট আচরণ সংসদীয় ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বলেন, আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, বিতর্কের বিষয়বস্তু এবং মান হবে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। তবে অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভা সংসদীয় গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেছে বলে তিনি খুশি, অকপটে বলেন রাষ্ট্রপতি। প্রসঙ্গক্রমে তিনি একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখার জন্য অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্যদের প্রশংসা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান যুগে পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই উদ্বেগের সমাধানসূত্র আমাদের দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। অরুণাচল প্রদেশের মতো ভৌগোলিকভাবে সংবেদনশীল রাজ্যের জন্য এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বলেন, অরুণাচল প্রদেশের নীতিনির্ধারকরা এই বিষয় সম্পর্কে আন্তরিকতার সঙ্গে যত্ন নিচ্ছেন, তাই তিনি অত্যন্ত খুশি। অরুণাচল প্রদেশ ‘পাক্কে’ ঘোষণার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে, এতেও তিনি তাঁর সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন। এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আশা, দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিও জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলায় অরুণাচল প্রদেশ-মডেল গ্রহণ করে এগিয়ে যাবে।
‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ প্রোগ্রামের অধীনে ‘ই-বিধান’ (কাগজবিহীন ডিজিটাল যাত্রা) বাস্তবায়নের জন্য অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ২০২২ সালকে ‘ই-গভর্নান্সের বছর’ হিসাবে ঘোষণা করে বেশ কয়েকটি ই-গভর্নান্স প্রকল্প চালু করেছে। আশা ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই প্রকল্পগুলি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সংস্কারে সাহায্য করবে না বরং সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে অবদান রাখবে।
স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অ্যাসেম্বলি লাইব্রেরিতে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায় শুনে তিনি অত্যন্ত খুশি বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি ‘ন ইওর অ্যাসেম্বলি’ (আপনার বিধানসভাকে জানুন) উদ্যোগের অধীনে বিধানসভাকে সময় সময় ছাত্রদের তাঁদের আইনি কার্যাবলির সাথে পরিচিত করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তরুণ প্রজন্ম এ সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী বলেন, স্ব-শাসন এবং তৃণমূলস্তরে গণতন্ত্রের একটি প্রাণবন্ত ব্যবস্থা বহু শতাব্দী ধরে অরুণাচল প্রদেশে বিদ্যমান। তিনি বলেন, এই রাজ্যের জনগণ আধুনিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে, যা তাঁদের রাজনৈতিক চেতনা এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণ আশা করেন, তাঁরা সর্বদা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সচেষ্ট থাকবেন। বলেন, রাজ্যের শীর্ষ নীতিনির্ধারক হিসাবে বিধানসভার সদস্যদের রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের দেশের সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের আরও বেশি অংশগ্রহণ করতে হবে। অরুণাচল প্রদেশ সহ দেশের সমস্ত রাজ্য বিধানসভার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা উচিত।
দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভারতের অ্যাক্ট-ইস্ট পলিসির একটি প্রধান স্টেকহোল্ডার৷ ভূতল সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের অভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু ভারতরত্ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (প্রয়াত) অটলবিহারী বাজপেয়ীর আন্তরিক ইচ্ছায় তদানীন্তন কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে পৃথক একটি মন্ত্রালয় (ডেভেলপমেন্ট অব নর্থইস্ট রিজিওন সংক্ষেপে ডোনার) গঠন করেছিল। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে দ্রুততার সঙ্গে সংযোগ এবং উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রভাবে অরুণাচল প্রদেশে উন্নয়নের সূর্য উদয় হচ্ছে দেখে তিনি খুশি। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানসম্পন্ন মানবসম্পদ সহ অরুণাচল প্রদেশের একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য এবং বাণিজ্য ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ যাতে শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য আমাদের এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও প্রসারের ওপর জোর দিতে হবে। অরুণাচল প্রদেশের জনপ্রতিনিধি হিসাবে এই বিধানসভার সদস্যদের রাজ্যের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে, ভাষণে বলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, দুদিনের সফরসূচি নিয়ে গতকাল সোমবার ইটানগর এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গতকাল অরুণাচল প্রদেশের ৩৭-তম রাজ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ইটানগর শহরে রাজ্য সরকার কর্তৃক তাঁর সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু।