আগরতলা, ৮ ফেব্রুয়ারি(হি. স.) : ত্রিপুরায় বিজেপির ডাবল ইঞ্জিনের সরকার গত পাঁচ বছরে শান্তিপ্রিয় মানুষের সাথে সন্ত্রাস, লুটপাট, প্রতারণা এবং অত্যাচার করেছে। আজ রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম নেত্রী তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বৃন্দা কারাত বামফ্রন্ট সমর্থিত নির্দল প্রার্থী আইনজীবি পুরুষোত্তম রায় বর্মনের সমর্থনে সভায় চাঁচাছোলা ভাষায় বিজেপিকে বিঁধেছেন। তাঁর দাবি, আজ ডাবল ইঞ্জিনের অপশাসন থেকে মুক্তির সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার মানুষ গত পাঁচ বছরের হিসেব কড়ায় গন্ডায় উসুল করে নেবেন।
এদিন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের আসন সমঝোতা নিয়ে বলেন, সমস্ত ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরাও সেই ডাকে সাড়া দিয়েছি। রাজনৈতিকভাবে এবং আদর্শের দিক দিয়ে আমাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে ঠিকই। কিন্তু, ত্রিপুরাকে বাঁচাতে আমাদের মধ্যে মতভেদ দূরে সরিয়ে রাখা উচিত বলেই মনে করেছি।
তাঁর কটাক্ষ, বিজেপি সংবিধান অনুসরণ করে না। ১৯৫০ সালে ড. বি আর আম্বেডকর ভারতের সংবিধানের রচনা করার পর অগণতান্ত্রিক শক্তি তার বিরোধীতা করেছিল। বরং তাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে সংবিধানের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। এরপর থেকে আরএসএস দেশের চারিত্রিক বৈশিষ্ট পরিবর্তনে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সাল থেকে ওই শক্তি ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে ক্রমাগত আঘাত করে চলেছে, সুর চড়িয়ে বলেন তিনি।
এদিন বৃন্দা কারাত রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসঙ্ঘ চালক ড. মোহন ভাগবতকেও তুলোধুনো করেছেন। বৃন্দার অভিযোগ, মোহন ভাগবত এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ভারতে থাকতে হলে মুসলিমদের তাঁদের কথা মেনে চলতে হবে। শুধু তাই নয়, কমিউনিস্ট সহ দেশের সকল অংশের মানুষকে হিন্দুত্বের মতাদর্শ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি আরএসএস প্রধান হতেই পারেন, কিন্তু আমরা সংবিধানকে মুখ্য হিসেবে গণ্য করি, জোর গলায় দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরিতে বিজেপিকে ধর্মকে ব্যবহার করছে। তাঁর আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার গরীব অংশের মানুষের মধ্যে একতা ভাঙ্গতে জোর লাগিয়েছে এবং শিল্পপতিদের আরও ধনি হতে সহায়তা করছে। ত্রিপুরা প্রসঙ্গে বৃন্দার দাবি, ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মিসকলে চাকুরী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপির। উল্টে, বামফ্রন্ট জমানায় রেগায় ৮৮ শ্রমদিবস কাজ হয়েছে। বিজেপির শাসনে তা ৪০ শ্রমদিবসে নেমে গেছে, তোপ দাগেন তিনি।এদিন বৃন্দা কারাত, সপ্তম বেতন কমিশন, ১০৩২৩ চাকুরিচ্যুত শিক্ষক, নতুন পেনশন স্কীম সহ বাইক বাহিনীর অত্যাচার এবং সামাজিক ভাতা প্রকল্পে লক্ষাধিক মানুষের নাম বাদ পড়ায় বিজেপি জোট সরকারকে একহাত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় বাম গণতান্ত্রিক জোট সরকার প্রতিষ্ঠা হলে ওই সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে।

