News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • Action plan : ২৫ বছরের কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের ম্যারাথন বৈঠক
Image

Action plan : ২৫ বছরের কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের ম্যারাথন বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ ডিসেম্বর৷৷ পঁচিশ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারীকদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ প্রজ্ঞাভবনে এই বৈঠক হয়েছে শনিবার সন্ধ্যারাত পর্য্যন্ত৷ মূলতঃ ২৫ বছরের কাজকর্মের একটি রূপরেখা তৈরী করা হচ্ছে৷ যা আগামী বছরের প্রথম দিকে তথা পূর্ণরাজ্য দিবসে ঘোষণা দেয়া হবে সরকারের তরফে৷ সবমিলিয়ে আশার আলো ও স্বপ্ণ দেখার তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্যে৷


রাজ্যের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত নির্মাণের লক্ষ্যেই ’ভিশন-২০৪৭’ রূপরেখা তৈরী করা হয়েছে৷ তাই বিদ্যালয়স্তরে নবম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের এই ’ভিশন-২০৪৭’-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত করা আবশ্যক৷ এই ভিশন-২০৪৭ সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদেরও মতামত রাখার সুুযোগ দিতে হবে৷ তবেই এই কর্মসূচির সফলতা আসবে৷ আজ প্রজ্ঞাাভবনে আয়োজিত ’ভিশন-২০৪৭’ শীর্ষক দু’দিনের কর্মশালার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিশন-২০৪৭ কর্মসূচি সফল করতে হলে ছাত্র যুবাদের চিন্তাধারাকেও ভিশনের সঙ্গে জড়তে হবে৷ ছাত্রছাত্রীদের রাজ্য সরকারের গৃহীত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি সম্পর্কে অবগত করা হবে৷ প্রয়োজনে বিদ্যালয়গুলির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের কর্মশালা আয়োজন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন৷ এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা তাদের ভবিষ্যত গড়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকে তৈরী হতে পারবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিশন-২০৪৭ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের ২৫ বছরের উর্ধে সকল মহিলাদের রোজগারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস নিতে হবে৷ এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ত্রিপুরাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে৷ মহিলা স্বশক্তিকরণের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কার্যকরী হবে৷ আর স্বশক্তি সম্পন্ন মহিলারাই স্বনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের যে কোনো রাজ্যের ভালো প্রকল্পগুলি সম্পর্কে অধ্যয়ণ করে রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে৷ রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুুশাসন থাকা খুবই প্রয়োজন৷ এক্ষেত্রে যে দেশে বা রাজ্যে সুুশাসনের বিষয়ে ভালো কাজ করছে তা অনুসরণ করে রাজ্যের উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ’ওয়ান ডিষ্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তা রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গ্রহণ করতে হবে৷ এক্ষেত্রে রাজ্যের যে জেলা যেসব জিনিসের জন্য বিখ্যাত সেগুলিকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে৷ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে এই পরিকল্পনা রূপায়ণে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকগণকে নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য বলতে হবে৷ তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় যেসব পণ্য উৎপাদিত হবে সেগুলি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোন লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকলে সাফল্য নিশ্চয়ই আসবে৷ রাজ্যের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উন্নত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে ভিশন-২০৪৭ কর্মসূচিকে সফলরূপ দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার প্রয়োজন৷ প্রতিটি সেক্টরে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তার অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি ভিশন-২০৪৭-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে রাজ্যের অন্তিম ব্যক্তিকেও অবগত করানোর উদ্যোগে প্রচারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে৷ তার জন্য ভিশন-২০৪৭ কর্মসূচিতে প্রচারের বিষয়টিও যুক্ত করার জন্য প্রতিটি দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷


দুই দিনের কর্মশালার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা ভিশন-২০৪৭, পঁচিশ বছরে রাজ্যকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে বিভিন্ন দপ্তরকে অধিক লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে নিত্যনতুন কৌশলের উপর মনোনিবেশ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরার প্রায় ৭০ শতাংশ স্থান বনাঞ্চল৷ এই বনজ সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে৷ একে বাদ দিয়ে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন, রাজ্যের পর্যটন শিল্পের উন্নতির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি পর্যটন স্থান বনা’লের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত৷ বন হল বাস্তুতন্ত্রের মূল চাবিকাঠি৷ উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার সংস্ক’তি হল বৈচিত্রময়৷ এখানে বিভিন্ন জাতি, জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষের সমাবেশ৷ তাদের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বৈচিত্রময় সংস্ক’তি৷ এই সংস্কৃতিও অনেকটাই বনের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ তাই সকলকে বনজ সম্পদের রক্ষায় যত্নবান হতে হবে৷ এই প্রসঙ্গে তিনি গাছ কাটার পাশাপাশি গাছ লাগানোর উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন৷ তিনি বলেন, আগামী ২৫ বছর পর রাজ্যকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে প্রাথমিক ক্ষেত্র সহ উদ্যানপালন, মৎস্য চাষ, পর্যটন প্রভৃতি ক্ষেত্রের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কাজ করতে হবে৷ তবেই রাজ্যকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব৷ ’ভিশন ২০৪৭- ত্রিপুরা’ শীর্ষক দু’দিন ব্যাপী কর্মশালা আজ প্রজ্ঞাভবনের এক নং সভাকক্ষে সমাপ্ত হয়েছে৷ নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ২৫ বছরের রূপরেখা স্থির করে এই ভিশন- ২০৪৭ ত্রিপুরা শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে৷ সমাপ্তি সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, বনমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব, তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী সুুশান্ত চৌধুরী, তপশিলীজাতি কল্যাণ মন্ত্রী ভগবান চন্দ্র দাস, মুখ্য সচিব কুমার অলক, পুলিশের মহানির্দেশক ভি এস যাদব, সিপার্ডের ডিজি তথা প্রধান সচিব শ্রীরাম তরণী কান্তি, ভিশন- ২০৪৭-র ৬টি ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সনগণ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিব, অধিকর্তা সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ৷


সমাপ্তি সন্ধ্যায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে ভিশন-২০৪৭ এর ৬টি সেক্টরের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন শিপার্ডের ডিজি তথা প্রধান সচিব শ্রীরাম তরণী কান্তি৷ এই ৬টি সেক্টরের মধ্যে প্রাথমিক ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সন তথা সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার৷ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সেক্টর নিয়ে আলোচনা করেন ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সন তথা রাজ্যের প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক ড. ডি কে শর্মা৷ শিল্প ও বিনিয়োগ সেক্টর নিয়ে আলোচনা করেন ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সন তথা শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব ডা. পি কে গোয়েল৷ পরিকাঠামো, যোগাযোগ ও লজিস্টিক সেক্টর নিয়ে আলোচনা করেন ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সন তথা পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে৷ সামাজিক ক্ষেত্র সেক্টর নিয়ে আলোচনা করেন ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সন তথা দিল্লি ত্রিপুরা ভবনের রেসিডেন্ট কমিশনার চৈতন্য মূর্তি৷ গভর্ন্যান্স সেক্টর নিয়ে আলোচনা করেন ড্রাফটিং কমিটির সেক্টর চেয়ারপার্সন তথা জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব পুণিত আগরওয়াল৷ কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, বনমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী সুুশান্ত চৌধুরী, মুখ্যসচিব কুমার অলক প্রমুখ ’ভিশন-২০৪৭ ত্রিপুরা’ বাস্তবায়ণে সকল দপ্তর ও রাজ্যবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন৷

Releated Posts

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026

সুস্থ সমাজ গঠনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান সুদীপ রায় বর্মনের

আগরতলা, ১৭ মে: দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী দেশ গঠনে কাজে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন…

ByByReshmi Debnath May 17, 2026

ত্রিপুরায় নতুন ইন্ডিয়া রিজার্ভ (আই আর) ব্যাটালিয়ান গঠনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র; মিলবে ৫০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মে: ত্রিপুরার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে বড় পদক্ষেপ…

ByByReshmi Debnath May 15, 2026

রাজবাড়ীর অন্দরমহলে মঙ্গলচণ্ডী পূজা, ভক্তদের ভিড়ে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ

আগরতলা, ১মে : ২৮শে বৈশাখ উপলক্ষে আগরতলার রাজবাড়ীর অন্দরমহলে অনুষ্ঠিত হলো মঙ্গলচণ্ডী পূজা। সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত…

ByByTaniya Chakraborty May 12, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top