নয়াদিল্লি, ১৯ অক্টোবর (হি.স.): লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে অবশেষে সাক্ষাৎ করলেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া বাবুল সুপ্রিয়। ইস্তফাও দিয়ে দিলেন সাংসদ পদ থেকে। মঙ্গলবার বেলা এগারোটা নাগাদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যান বাবুল সুপ্রিয়। স্পিকারের কাছে লোকসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন বাবুল। এদিন বাবুল জানিয়েছেন, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সময় তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি সুযোগ দেওয়ার জন্য ও তাঁর উপর আত্মবিশ্বাস রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়।
২০১৪ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রথম বার ভোটে লড়েছিলেন বাবুল। আসানসোলবাসী বাবুলকে দিল্লি পাঠাতে দ্বিধা করেননি। প্রথম বার ভোটে জিতে মোদীর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছিলেন বাবুল। তার পর থেকে একটানা মন্ত্রী। ২০১৯ লোকসভায় ব্যবধান বাড়িয়ে আবার জয়ী হন। তারপর ঠাঁই হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। কিন্তু, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে বাদ পড়েন বাবুল। তার পর রাতারাতি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা এবং কিছু দিনের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন। বাবুল আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি যাদের টিকিটে নির্বাচিত, সেই দল ছেড়ে অন্য দলে গেলে পুরনো দলের সাংসদ পদ আঁকড়ে ধরে রাখা ‘অনৈতিক’ কাজ হবে। মঙ্গলবার বেলা এগারোটা নাগাদ বাবুলকে সময় দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
এদিন স্পিকারের বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছেন, “বিজেপির সৌজন্যে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল, আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার উপর তাঁরা আত্মবিশ্বাস রেখেছিলেন। আমি মনেপ্রাণে রাজনীতি ত্যাগ করতাম।” বাবুল আরও বলেছেন, “কয়েক মাস আগে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। রাজনীতির বাইরে তিনি আমার একজন বন্ধু, স্পষ্টতই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আমার সম্পর্কে খুব কঠোর কথা বলতে হবে। নিজের বাবা এবং ভাইকে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া উচিত তাঁর, কারণ তাঁরা তৃণমূলের অংশ নন।”

