নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ১৬ অক্টোবর৷৷ তেইশ বছরের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিলোনিয়া হাসপাতাল চত্বর৷ মৃতঃ যুবকের পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনের অভিযোগ বিলোনিয়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপঙ্কর দের চিকিৎসার গাফিলতির কারণে মৃত্যু হয়েছে যুবকের৷ মৃত যুবকের নাম সৌরজিত শীল শর্মা৷ বাড়ি ঋষ্যমুখ ব্লকের জয়কাত পুর এলাকায়৷ খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে দক্ষিণ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগদীশ চন্দ্র নমঃ, বিলোনিয়া মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক বিমল কলই সহ পুলিশ ও টিএস আর বাহিনী৷
দশমীর সাত সকালে দুর্ঘটনা গ্রস্ত যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা হওয়ার পাশাপাশি কান্নার আওয়াজ হাসপাতাল চত্বরে শোকার্ত পরিবার ও পরিজনদের৷ কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপঙ্কর দের চিকিৎসার গাফিলতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে, মৃত যুবকের পরিবার পরিজনরা৷ তাদের দাবি এই চিকিৎসক কে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হোক এবং ঘটনার তদন্ত ক্রমে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক যাতে এমন একটি দৃষ্টান্ত থাকে কোন রোগী চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু না হয়৷ হাসপাতালে জনগণের ক্ষোভের মুখে চিকিৎসক দীপঙ্কর দে বাথ রুমে গিয়ে ঢুকে নিজেকে আত্মরক্ষা করার জন্য৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাথ রুম থেকে চিকিৎসক দীপঙ্কর দেকে বিলোনিয়া থানাতে নিয়ে আসে৷ মৃত যুবক সৌরজিত শীল শর্মার পরিবারের পক্ষ থেকে ডাক্তার দীপঙ্কর দের বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিলোনিয়া থানায় মামলা করা হয়৷ শারদীয়া দুর্গাপুজো দেখার জন্য বিলোনিয়াতে আসে সৌরজিত শীল শর্মা সহ তার কিছু বন্ধু৷ কিন্তু পূজো দেখতে এসে বাড়িতে আর ফেরা হলো না সৌরজিত৷ পথ দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেল সৌরজিত৷
দুর্ঘটনাটি ঘটে নবমীর রাত দুইটা নাগাদ বিলোনিয়া আর্যকলোনি এলাকায়৷ পায়ে হেঁটে দূর্গা পূজা দেখতে যাওয়ার পথে দ্রুত গতিতে আসা একটি বাইক সজোরে ধাক্কা মারে সৌরজিতকে৷ এর ফলে বাইক চালক অভিজিৎ সাহা ওরফে কালু সহ সৌরজিত আহত হয়৷ প্রত্যক্ষ দর্শীদের মতে বাইক চালক অভিজিৎ সাহা ওরফে কালু মদমত্ত অবস্থায় দ্রুত গতিতে বাইক চালানোর ফলে এই দূর্ঘটনা৷ সাথে সাথে দূর্ঘটনা গ্রস্ত আহতদের নিয়ে আসা হয় বিলোনিয়া হাসপাতালে৷ সেই সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিল দীপঙ্কর দে৷ বাইক চালক অভিজিৎ সাহা ওরফে কালুকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে উদয়পুর গোমতী জেলা হাসপাতালে রেফার করলেও , গুরুতর আহত সৌরজিতকে রেফার করেনি চিকিৎসক দীপঙ্কর দে৷ দুর্ঘটনা গ্রস্ত সৌরজিত মাথার যন্ত্রনা নিয়ে ছটফট করতে থাকার পরেও কোন পাত্তা দেয়নি চিকিৎসক দীপঙ্কর দে৷ পরিবারের লোকেরা রেফারের জন্য অনুরোধ করার পরেও কোন কথাই শুনেনি চিকিৎসক৷ গুরুতর আহত হওয়ার পরেও ভর্তি রাখতে চায়নি সৌরজিতকে৷ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ সুরজিৎ মাথার যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলেও বারবার ডাক্তারের কাছে ছুটে গিয়ে বলার পরেও ডাক্তারবাবু সুরজিৎ এর পরিবারকে বলে দেয় কিছুই হবে না সব ঠিক হয়ে যাবে৷ আপনারা ডাক্তার না আমি ডাক্তার৷ অবশেষে আজ ভোরে চিকিৎসকের গাফিলতিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সুরজিৎ শীল শর্মা৷ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার মা-বাবা সহ আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে৷

