নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর।। ত্রিপুরায় সিপিএমের ধাঁচেই তৃণমূল শান্তি নষ্ট করতে চাইছে। তাই, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বাইরে থেকে লোক এনে ত্রিপুরায় শান্তি নষ্টের পরিকল্পনা করেছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আগরতলায় তৃণমূলের পদযাত্রায় পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে এ-কথা বলেন বিজেপি নেতা তথা তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূলের কার্যকলাপে বিজেপি ভিত নয়, বরং ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। সাথে তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপকে তৃণমূল মনে করছে বিজেপি ভয় পেয়েছে। অথচ, ওইদিন মহিলা মোর্চার কর্মসূচি বহু আগেই নির্ধারিত হয়েছে।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে সুশান্ত বাবু বলেন, ত্রিপুরায় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা রয়েছে সিপিএমের। একই কায়দায় তৃণমূলও ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। তাঁর দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর ধনপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ঠিক একই কায়দায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তৃণমূল পদযাত্রায় আগরতলা শহরে অস্থিরতা তৈরী করতে চেয়েছিল। তাই, শিলচর, কাছার থেকে লোক ভাড়া করে এনে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
তাঁর কটাক্ষ, সিপিএম ও তৃণমূলের মধ্যে অসম্ভব মিল রয়েছে। কারণ, সিপিএম বরাবরই সন্ত্রাসে বিশ্বাসী। তৃণমূলও ঠিক একই কায়দায় সন্ত্রাসে ভর করেই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, ইতিপূর্বে তৃণমূল ত্রিপুরায় ক্ষমতা পরিবর্তনের একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। কিন্ত, তৃণমূল কংগ্রেস বারে বারেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অবশ্য, ত্রিপুরার নেতাদের সাথে তৃণমূল নেত্রীর বিমাতৃসুলভ আচরণ বামেদের উত্খাতে কোন কার্যকরী ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়নি।
সুশান্ত বাবু মনে করেন, ত্রিপুরায় অস্থিরতা কায়েমের উদ্দেশ্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জোর চেষ্টা চালিয়েছে তৃণমূল। কারণ, ঢাল, তলোয়ার বিহীন তৃণমূলের কাছে ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিথ্যার আশ্রয় একমাত্র হাতিয়ার। তাই, প্রতিনিয়ত যোগদানের নামে শুধুই মিথ্যা ছড়িয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার মানুষ তৃণমূলকে ভরসা করতে পারছেন না। তাই, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন করিমগঞ্জ, শিলচর, কাছারের মানুষ তৃণমূলের ভরসা।
তিনি ত্রিপুরাবাসী-কে সতর্ক করে বলেন, বহিরাজ্য থেকে এসে মানুষ ত্রিপুরায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটিয়ে চলে যাবে। তাতে, আমাদের লোকসান হবে। তাই, বহিরাগতদের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। শান্তির পরিবেশ অশান্ত করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। সাথে তিনি জোর গলায় দাবি, বিজেপি কাউকে ভয় পায় না। কারণ, জনগণের সমর্থনে বিজেপি বলিয়ান হয়েছে।

