News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • একটি শক্তিশালী ডেটা সেন্টারই তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামোর মেরুদণ্ড: মুখ্যমন্ত্রী
Image

একটি শক্তিশালী ডেটা সেন্টারই তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামোর মেরুদণ্ড: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি: এয়ারটেল ডেটা সেন্টার ও আইটি বিনিয়োগে নতুন গতি পেল ডিজিটাল ত্রিপুরা। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরা রাজ্যের ডিজিটাল রূপান্তর যাত্রায় আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক যুক্ত হলো। উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ডেটা সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে ভরতী এয়ারটেল-এর উদ্যোগে আগরতলায় ডেটা সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো।

আজ আগরতলার চানমারিতে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা এয়ারটেল কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সর্ববৃহৎ ডেটা সেন্টার ত্রিপুরায় স্থাপনের জন্য রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ডেটা সেন্টারই তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামোর মেরুদণ্ড, যা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ, পরিচালনা ও ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, আইএএস সচিব কিরণ গিত্তে, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা সুপ্রকাশ জমাতিয়া। এয়ারটেলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বালাজি আর, সিইও এবং সিমরনবীর সিংহ, সিটিও , সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা ব্যবহারে ভারতের অংশ প্রায় ২০ শতাংশ হলেও দেশের ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতা মাত্র ২ শতাংশ। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতা ১.৫ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৮ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরায় ডেটা সেন্টার স্থাপন অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, অনুকূল জলবায়ু, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং উন্নত বিমান যোগাযোগ ত্রিপুরাকে ডেটা সেন্টার বিনিয়োগের আদর্শ গন্তব্য করে তুলেছে। আগরতলায় অবস্থিত দেশের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে রাজ্যের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রেও ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। রাজ্যে রয়েছে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৩টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ৩টি মেডিকেল কলেজ, ৬টি পলিটেকনিক ও একাধিক সাধারণ ও পেশাদারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে ডিরেগুলেশন ও কমপ্লায়েন্স রিডাকশনে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করায় রাজ্যের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও জোরদার হয়েছে।

সরকারি উদ্যোগে আগরতলার চাণমারি এলাকায় এক একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভরতী এয়ারটেল লিমিটেডকে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত হতে চলা এই ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা হবে ৫ মেগাওয়াট এবং এতে ৮০ হাজার বর্গফুটের জি+৩ ভবন থাকবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫০ থেকে ২০০ জনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে দপ্তরটি। তিনি জানান, ত্রিপুরার ডেটা সেন্টার নীতি (২০২১) দেশের অন্যতম সেরা, যেখানে বিদ্যুৎ ভর্তুকি, ভাড়া ছাড়, ব্যান্ডউইথ সাবসিডি ও মূলধনী ভর্তুকিসহ একাধিক আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

এই নীতির ফলে পিভিএম ইনভেনসিস, পোলো টাওয়ার্স গ্রুপ ও সিটিআরএলএস-এর মতো একাধিক সংস্থা ত্রিপুরায় ডেটা সেন্টার স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি এয়ারটেল ডেটা সেন্টারের পাশে একটি ইনোভেশন ও ইনকিউবেশন ল্যাব এবং ৬.৮১ একর জমিতে ট্রিপুরা আইটি অ্যান্ড ডেটা ইকোসিস্টেম জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্থানীয় প্রতিভা ও স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার চালু করেছে নিউ জেনারেশন ইনোভেশন নেটওয়ার্ক প্রকল্প এবং ট্রিপুরা স্টার্ট-আপ পলিসি ২০২৫। এই নীতির আওতায় বীজ তহবিল, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং সহায়তা ও আইপিআর সুরক্ষার সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ ভেঞ্চার ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার সন্তান ডা. প্রশান্ত সরকার, নিউট্রেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতার সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন, যিনি জাতীয় স্টার্ট-আপ দিবস ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।

সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রগতিশীল নীতি, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা ও ডিজিটাল সংস্কারের ফলে ত্রিপুরা খুব শীঘ্রই উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার ও আইটি হাবে পরিণত হবে। এয়ারটেল ডেটা সেন্টার এবং ভবিষ্যৎ আইটি প্রকল্পগুলি ‘ডিজিটাল ত্রিপুরা’-কে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে।

Releated Posts

সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান করা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ জুন: সমস্যা পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার লক্ষ্য নিয়ে…

ByByReshmi Debnath Jun 25, 2026

রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ২৪ জুন: গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী…

ByByReshmi Debnath Jun 24, 2026

সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি সুদীপ রায় বর্মনের

আগরতলা, ২৪ জুন: আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি) ও জিবি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার উপর…

ByByReshmi Debnath Jun 24, 2026

জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে যাত্রীবাহী বাস, অল্পেতে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

আগরতলা, ২৪ জুন : আজ সকালে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বীরেন্দ্রনগর বাজার সংলগ্ন জাতীয় সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার…

ByByTaniya Chakraborty Jun 24, 2026
Scroll to Top