নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের কোনও চার্জ দিতে হবে না বলে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে নামমাত্র মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালু হতে পারে।
শনিবার অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (পি২পি) ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের উপর কোনও সার্বিক এমডিআর চাপানো হবে না।
মন্ত্রক জানিয়েছে, যদি এমডিআর চালু করা হয়, তা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সীমার বেশি হওয়া কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এর হারও থাকবে নামমাত্র। এই চার্জ ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে এমডিআর নেওয়া হয়, তার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০০৭-এ সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের এই স্পষ্টীকরণ সামনে এল। সংশোধনী ঘিরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ইউপিআই ব্যবহারকারীদের উপর ভবিষ্যতে কোনও ধরনের চার্জ চাপানো হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনটি মূলত ইউপিআই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য একটি ক্ষমতায়নকারী বিধান হিসেবে আনা হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলি কর ও অন্যান্য আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর অংশ। সংসদে বিলটি পাশ হলে এমডিআর আরোপ করা হবে কি না, কিংবা হলে তার হার কত হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ‘ইউপিআই ও পরিষেবা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটি’। কমিটির নেতৃত্বে থাকবে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)।
কেন্দ্রের বক্তব্য, ইউপিআই লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ফলে সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর উন্নয়নে নিয়মিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে ইউপিআই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর রাজস্ব মডেলও প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।
সরকারের মতে, এমন একটি ব্যবস্থা চালু হলে আরও বেশি সংস্থা ইউপিআই ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ ও পরিষেবা সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবে এবং সরকারি ভর্তুকির উপর নির্ভরতা কমবে। অর্থ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই ২০২৬-এই ইউপিআই-তে ২,৩৬৬ কোটি লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৯.৯ লক্ষ কোটি টাকা।
শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ইউপিআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে ১১টি বিদেশি দেশে ইউপিআই পরিষেবা চালু রয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি দেশ এই প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। এদিকে, ইউপিআই সংক্রান্ত নীতিতে কোনও বাহ্যিক প্রভাব কাজ করছে, এমন দাবি খারিজ করেছে সরকার। এ ধরনের রিপোর্টকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেছে অর্থ মন্ত্রক।


















