আগরতলা, ৬ এপ্রিল (হি.স.) ৷৷ ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচনে ব্যাতিক্রমী ভোটের সাক্ষী রইলেন গিরিবাসী৷ কারণ এই প্রথম পাহাড়ের মানুষ নির্ভয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন৷ তবে এডিসি-তে পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তিপ্রা মথা এবং সিপিএম-এর ষড়যন্ত্রে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও, অনেক ক্ষেত্রেই তা বিফল হয়েছে৷ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে দৃঢ়তার সাথে এ-কথা বলেছেন বিজেপির ত্রিপুরা প্রদেশ নেতৃবৃন্দ৷ তাঁরা এডিসি-তে বিজেপি-আইপিএফটি জোটের জয় নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন৷
আজ বিজেপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক টিঙ্কু রায় বলেন, দীর্ঘ বছর পর এই প্রথম এডিসি নির্বাচনে বিরাট সংখ্যায় ভোট পড়েছে৷ তাতে তিনি কাঞ্চনপুর এবং মনু বংকুলের মধ্যে ভোটের হারের কোনও তফাত খুঁজে পাচ্ছেন না৷ তাঁর দাবি, পাহাড়ে গণদেবতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন৷ কারণ, দীর্ঘ কমিউনিস্ট শাসন থেকে তাঁরা মুক্তি পেতে চাইছেন৷ তিনি জোর গলায় বলেন, পরিবর্তন ও উন্নয়নের জন্য আজ এডিসি-তে ভোট হয়েছে৷
এদিন বিজেপি প্রদেশ মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, ইতিপূর্বে পাহাড় নির্বাচনে এবারের মতো অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি৷ তাঁর দাবি, এই প্রথম পাহাড়ের মানুষ নির্ভয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন৷ তবে, বামেদের সংসৃকতি সহজে মুছে ফেলা খুবই মুশকিল৷ তাই, কিছু কিছু স্থানে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে৷ তিনি বলেন, বিজেপি উন্নয়নের ধারা মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে৷ কিন্তু সদ্য গজিয়ে ওঠা রাজনৈতিক দলকে সিপিএম প্রত্যক্ষ মদত দিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে এডিসি দখল নিতে চাইছে৷ তাঁর অভিযোগ, কিছু স্থানে ভোটকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে, এমন-কি ভোটযন্ত্র ভেঙে দিয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, প্রশাসনের একাংশ নির্বাচনি দায়িত্ব ভুলে তিপ্রা মথা-র সহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন৷
তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর পরিশ্রমে শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে৷ তাতে স্পষ্ট, এডিসি-ও এখন থেকে নতুন ধারায় এগিয়ে চলেছে৷ সব-কা সাথ, সব-কা বিকাশ-এর প্রতি বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখতে পেয়েছে৷ তাঁর বিশ্বাস, আগামী দিনে এডিসি থেকে সিপিএম-এর অপসংসৃকতি মুছে দেওয়া সম্ভব হবে৷ সাথে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, তিপ্রা মথা এবং সিপিএম গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না৷ তাই, বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে তারা ষড়যন্ত্র করেছে৷ তাঁর হুঁশিয়ারি, প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা অগণতান্ত্রিক ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানো হবে৷
আজ বিজেপি-র প্রদেশ প্রধান মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি৷ তবে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে, তাতে তিপ্রা মথা ও সিপিএম-এর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছি৷ তাঁর দাবি, ষড়যন্ত্র অনেক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা বিফল হয়েছে৷ প্রশাসনের দৃঢ়চেতা মনোভাব সমস্ত ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিতে সহায়তা করেছে৷ সাথে যোগ করেন, ইচ্ছে করলেই আক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন বিজেপি কর্মীরা৷ কিন্তু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বিজেপি কর্মীরা অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন৷ তাঁরা সংযম রেখেছেন৷
তিনি জানান, আমতলি-গোলাঘাটি কেন্দ্রের অধীন ধরিয়াথল এলাকায় বিজেপি কর্মী সুখরঞ্জন দেববর্মাকে মারধর ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে৷ অমরেন্দ্রনগরে তিপ্রা মথা এবং সিপিএম-এর দুষৃকতীরা বিজেপি-র পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে দেয়নি৷ তিনি আরও জানান, কাঠালিয়া-মির্জা কেন্দ্রে তিপ্রা মথা বুথ দখলের চেষ্টা করেছে৷ সাব্রুমের ভুরাথলি এলাকায় সিপিএম ব্যাপক সন্ত্রাস করেছে৷ এখানেই শেষ নয়, মহারানি-চেলাগাং কেন্দ্রে তিপ্রা মথা-র সমর্থকরা বিজেপি কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে৷ সুব্রতবাবু বলেন, সমস্ত ষড়যন্ত্র ভেদ করে মানুষ বিজেপি-আইপিএফটি জোটের পক্ষে ভোট দিয়েছে৷ আগামী ১০ এপ্রিল ভোটের ফলাফলে তার প্রমাণ মিলবে৷


















